ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নারী ভিক্ষুককে মারধর করে শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতন 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরে ভিক্ষাবৃত্তির প্রায় ৫ লাখ টাকা চাইতে গেলে ইয়াসিন নূর রিপনি নামে এক নারী ভিক্ষুককে মারধর করা হয়েছে। এ সময় তার শরীরে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন এ নারীকে নির্যাতন করেছেন তার ভাবি খাদিজা বেগম ও সুরভী বেগম।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডর নাসিরখাজা মাঝির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী ওই নারী সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রিপনির স্বামী নেই। এক ছেলে রয়েছে। সে মহিষ চড়াতে গিয়ে মেঘনার চরেই থাকে। অসহায় রিপনি ভিক্ষাবৃত্তি করেই চলে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। ভিক্ষা করে তিনি যা আয় করতেন সবই তার ভাইয়ের সহধর্মীনি খাদিজা ও সুরভি নিয়ে যেতেন। সম্প্রতি টাকা নিয়ে রিপনির সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়। 

এতে রিপনি তার প্রায় ৫ লাখ টাকা ফেরত চায়। টাকা ফেরত চাওয়ার কারণেই ঘটনার সময় খাদিজা ও সুরভী তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে তার শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। রিপনিকে মারধরের সময় বাধা দিলে তার ভাই শুক্কুর আলীও মারধরের শিকার হয়। প্রায়ই তারা তাকে মারধর করে আসছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন মাঝি, মো. সুমন ও সজিব হোসেনসহ কয়েকজন জানান, রিপনি অসহায় একজন নারী। তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তার ভাবিরা তাকে নির্যাতন করেছে। রিপনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

ভুক্তভোগী ইয়াসিন নূর রিপনি বলেন, অনেক বছর ধরে আমি ভিক্ষা করি। আমার সব টাকা খাদিজা আর সুরভি নিয়ে নেয়। তারা আমার টাকা দিচ্ছে না। ওই টাকা চাইতে গেলে তারা আমাকে মেরে শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। 

সুরভির স্বামী শুক্কুর আলী বলেন, রিপনিকে মারধরের সময় আমি বাধা দিতে যাই। এ সময় খাদিজা ও সুরভি আমার চোখেও মরিচের গুঁড়া দেয়। একপর্যায়ে আমাকে মারধর করতে তেড়ে আসে। চোখে মরিচের গুঁড়ার কারণে আমি কিছুক্ষণের জন্য অন্ধের মতো হয়ে পড়েছিলাম। 

রিপনির মা মাহমুদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ৷ মাঝে মাঝে গালাগালি করে। তাই হয়তো মারধর করেছে। কিন্তু মরিচের গুঁড়া দেওয়া ঠিক হয়নি। 

অভিযুক্ত খাদিজা বেগমের স্বামী ইসমাইল মাঝি বলেন, আমার বোন রিপনি প্রায়ই ঝগড়া করে তাই মারামারি হয়েছে। এ সময় তার শরীরে মরিচের গুঁড়া দেওয়া হয়েছে। এটা ঠিক হয়নি। 

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, এ ধরনের কোনো খবর আমাদের জানা নেই। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।