লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবেশীকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি গত পাঁচ বছরে থানায় পরপর ১১টি মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা না পাওয়ায় থানা পুলিশ সব মামলাই খারিজ করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মদাতি ইউনিয়নের শাখাতি মৌজার গ্রামে। অভিযোগকারী শিশির কুমার রায় ওই এলাকায় ‘মামলাবাজ’ হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয়রা জানান। তার দায়ের করা মামলার ভুক্তভোগী আশীষ কুমার রায় ওই গ্রামের চিত্তরঞ্জন রায়ের ছেলে।
এদিকে ধারাবাহিক হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে এবং অভিযুক্ত শিশির কুমার রায়কে আইনের আওতায় আনার দাবিতে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে শাখাতি গ্রামে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী আশীষ কুমার রায় অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে প্রতিবেশী শিশির কুমার রায়ের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে, তার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এমনকি বন্ধুবান্ধবদের বিরুদ্ধেও একের পর এক সাজানো মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে।
গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন ঘটনা সাজিয়ে মোট ১১টি মামলা দায়ের করা হলেও কালীগঞ্জ থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে কোনোটিরই সত্যতা না পাওয়ায় অভিযোগগুলো খারিজ করে দেয়।
তিনি আরও জানান, সর্বশেষ গত ২৯ নভেম্বর থানায় এসিড নিক্ষেপের একটি সাজানো অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় পুলিশ ১৭৭ নম্বর জিডিমূলে সেটিও খারিজ করে।
এরপর একই অভিযোগে গত ৮ ডিসেম্বর থানা পর্যায় অতিক্রম করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
মানববন্ধনে খারিজ হওয়া মামলার আসামি ও ভুক্তভোগী আশীষের বন্ধু ও আত্মীয় হৃদয় রায়, অমূল্য রায়, পুষ্পজিৎ রায়, পলাশ মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে, যা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
তারা অভিযুক্ত শিশির কুমার রায়কে আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীরা জানান, মামলা দায়েরের পাশাপাশি জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টাও করা হচ্ছে। এমনকি আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জবরদখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা সমাজ ও আইনশৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।


