ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নির্বাচনে দুলুর হলফনামায় ৫৩ কোটি টাকার সম্পদ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু তার নির্বাচনী হলফনামা জমা দিয়েছেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সাবেক এই উপমন্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে হওয়া ২৪টি মামলার মধ্যে ২১টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং বাকি ৩টি স্থগিত রয়েছে।

সাবেক এই কলেজ অধ্যক্ষ বর্তমানে নিজের পেশা হিসেবে ‘কৃষি ও ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ আসে কৃষি খাত থেকে, যার পরিমাণ ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭০ টাকা। এছাড়া বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে ১৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৫৫ টাকা আয় দেখিয়েছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী লায়লা হাবিব একজন সফল পরিবহন ব্যবসায়ী। তবে তাদের দুই ছেলের নামে কোনো ব্যাংক জমা বা সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

আসাদুল হাবিব দুলুর হলফনামায় সম্পদের একটি বড় চিত্র উঠে এসেছে তার কৃষি জমি থেকে। তার মোট ৩৬.৫১২ একর কৃষি জমির মূল্য প্রায় ২২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আর ৪.৫৮৫৭ একর অকৃষি জমির মূল্য প্রায় ২২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। স্থাপনা থেকে তিনি তার হলফনামায় দেখিয়েছেন ঢাকার বনানীতে ৩ কোটি টাকার ভবন এবং লালমনিরহাটে ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার সম্পদ। অন্যান্য সম্পদের মধ্যে তার রয়েছে খামার, চা বাগান, রাবার বাগান ও মৎস্য খামার বাবদ ৩ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার টাকার সম্পদ। এদিকে যানবাহনেও তার মালিকানায় রয়েছে দুটি মাইক্রোবাস, দুটি বাস, একটি ট্রাক এবং একটি নতুন গাড়ি, যার মোট মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকার উপরে। সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৩২ টাকা। অন্যদিকে তার স্ত্রীর নামে প্রায় ৮৭ লাখ ৪১ হাজার টাকার সম্পদ ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।

এদিকে আসাদুল হাবিব দুলুর সম্পদের বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ভোটারের মতে, দুলু পারিবারিকভাবেই বিত্তশালী এবং সম্পদের বড় অংশই তিনি পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন। হলফনামায় সঠিক তথ্য দিয়ে তিনি সততার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসাদুল হাবিব দুলু যোগাযোগ এবং খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন চালু, তিস্তা বাঁধ নির্মাণ এবং টিটিসি স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এছাড়া ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও তিনি দেশব্যাপী পরিচিত।