লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানী (৭) হত্যা মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৯টার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের কালীরপাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আসামি মমতা রানী (৩৭) ফলিমারী গ্রামের রনজিত কুমারের (৪২) স্ত্রী। এর আগে মমতার ছেলে বিধান চন্দ্র (২০) ও স্বামী রনজিত কুমার একই মামলার গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ওসি জানান, গত ১৬ জুন মঙ্গলবার সকালে ফলিমারী গ্রামে শিশু নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ ভুট্টাখেত থেকে উদ্ধার হওয়ার পর থেকে মমতা রানী বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। ওই দিনই মমতার স্বামী ও ছেলে গ্রেপ্তার হয়। নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মণ (৩৮) ১৬ জুন রাতে আদিতমারী থানায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ছেলেকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে মমতা রানী বিভিন্ন সময় তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবশেষে তাকে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি জানান, পারিবারিক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিশু নন্দিনীকে হত্যা করে বিধান চন্দ্র। পরে তার বাবা-মায়ের পরামর্শে শিশুটির মরদেহ বস্তাবন্দি করে গ্রামের একটি ভুট্টাখেতের ভেতর মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। শিশুটি ১৫ জুন সোমবার বিকেলে খেলাধুলা করতে বাড়ি থেকে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল। শিশুটি স্থানীয় ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র আদালতে শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। আমরা খুব দ্রুতই মামলাটির চার্জশিট আদালতে দাখিল করব।

