ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

তিস্তার পানি কমলেও কাটেনি মানুষের আতঙ্ক

কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

উজানের ঢল কিছুটা কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। তবে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। পানি নামতে শুরু করলেও গ্রামীণ সড়ক, বসতভিটা ও ফসলি জমিতে এখনো পানি থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে আবারও উজানের ঢলে পানি বাড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।

গত দুই দিনের বন্যায় লালমনিরহাটের প্রায় ৮ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার ও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে মঙ্গলবার সকালে তিস্তার পানি বিপৎসীমার (বিপৎসীমা ৫২.১৫ মিটার) ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ১০ টায় ৫১.৮৭ করে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার রাতে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় তিস্তা অববাহিকায় বন্যা দেখা দেয়। বর্তমানে পানি কমতে শুরু করলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা গোবর্ধন এলাকার কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাত থেকে গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। তবে অনেক সড়ক এখনো ডুবে থাকায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিস্তায় সামান্য পানি বাড়লেই আমাদের এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। বর্ষা এলেই আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করতে হয়।

ডাউয়াবাড়ী চর এলাকার কৃষক মনছুর আলী বলেন, রোববার রাত থেকে পানি বাড়তে দেখে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় চলে এসেছি। আজ সকাল থেকে পানি কমেছে, তবে এখনো বাড়িতে ফিরিনি।

কালীগঞ্জের শৈলমারী চরের কৃষক আবেদ আলী বলেন, হঠাৎ পানি বাড়ার বাদাম খেত ও মাছের প্রজেক্ট ভেসে গেছে। ভারত হঠাৎ পানি ছেড়ে দেওয়ায় প্রতি বছর এ ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হয়। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই!

হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, রোববার রাতে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার রাতেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। সোমবার সকাল থেকে পানি কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, তিস্তার পানি কমছে এবং এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ধীরে ধীরে পানি নেমে যাচ্ছে। তবে তিস্তার বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ধরলা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধরলার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান জানান, তিস্তা তীরবর্তী বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, তিস্তার পানি কমলেও বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে।