ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

ফরিদগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বিষয়টি জানে না পানি উন্নয়ন বোর্ড

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চৌরাঙ্গী বাজারে সরকারি খাল দখলে নিয়ে অবৈধস্থাপনা দোকান-পাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সম্পত্তি দখল করে এভাবে দোকানপাট নির্মাণের বৈধতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন। কৃষিক্ষেত্রে সরকারের খাল খনন ও স্বাভাবিক পানি সরবরাহ ভেস্তে বসেছে।  

উপজেলার পাইকপাড়া (উত্তর) ইউনিয়নের চৌরাঙ্গী বাজারের মূল সড়কের দক্ষিণ পাশ দিয়ে খালটি প্রবাহিত। যা পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের অবস্থিত। দুই ইউনিয়নের অংশে পাকা-আধাপাকা ৩১টি অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে পানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শত শত কৃষক। খালের ওপর দোকানগুলো স্থানীয় ১৩ জন ব্যক্তি নির্মাণ করেছে সূত্র বলে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের  জায়গায় তারা কীভাবে মালিক হলেন, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ কৃষকদের দাবি, দ্রুত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে পানি সরবরাহের পাশাপশি সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করার।

স্থানীয়রা সূত্র জানায়, ২০০৪ সাল থেকে প্রভাব খাঁটিয়ে খালের জায়গা দখল করে এসব দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ তালিকায় রয়েছেন, প্রয়াত চেয়ারম্যান মহসিন পাটওয়ারী, আওয়ামী লীগ নেতা মহিন উদ্দিন, মনির মোল্লা, ইমান মোল্লা, বিএনপি নেতা শাহীন মোল্লা, জয়নাল মিজি, শহীদ মোল্লা, বাবুল মোল্লা, শাহ আলম মোল্লা, খোকন মোল্লা, খোরশেদ, জাহাঙ্গীর শেখ, মনা পাটওয়ারী ও বুলু মাস্টারসহ আরও অনেকে।

অবৈধ স্থাপনা নির্মানকারীদের দাবি, সরকার থেকে লিজ নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। বাস্তবে তাদের কোনো ধরনের লিজ নেওয়ার কাগজপত্র নেই।  

অবৈধ দোকান মালিকদের মধ্যে বাবুল ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী বাবুল মোল্লা বলেন, সম্প্রতি  কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার জন্য মহসিন পাটওয়ারীর ছেলে পাভেল পাটওয়ারীর কাছে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনিই সব জানেন। তবে দোকান নির্মাণের অনুমতি বা বৈধতা-সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার ফজলে মওলা বিন মহসীন (পাভেল) পাটওয়ারীর কাছে বৈধ কাগজপত্রে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের বর্তমানে লিজের কোনো প্রমাণ পত্র নেই। তবে আশা করছি, আমরা লিজ পাব। ১০ হাজার টাকা দোকান পিছু তোলার বিষয়ে জানান, লিজ নিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। খাল খননের জন্য সম্মিলিতভাবে একটা টাকা তোলা হয়েছে বলে সত্যতা স্বীকার করেছেন।  

অবৈধ দোকান মালিক বুলু মাস্টার বলেন, আমার কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমার কাছে কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল, কিন্তু আমি দেইনি। আমি তাদের বলেছি, সরকার চাইলে উচ্ছেদ করুক, আমি আর টাকা দেব না।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, খালের অংশ লিজ দেওয়া যায় না। কৃষকের পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে অবৈধ স্থাপনাগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা নিয়ে নোটিশ দিয়ে উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, খালের  অংশ লিজ দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আমরা ওই এলাকার অবৈধ স্থাপনার একটি তালিকা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। প্রতিবেদনটি  অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।