ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

সরকারি সাইনবোর্ডে আর্জেন্টিনার পতাকা

আবেগের আড়ালে সরকারি নির্দেশনা, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

​দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে থানার পাশে অবস্থিত ‘২০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’। সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্রের মূল ফটকের সরকারি সাইনবোর্ডটি দীর্ঘদিন ধরে ঢেকে আছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের পতাকায়। এতে একদিকে যেমন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি, অন্যদিকে আড়ালে পড়ে থাকা সাইনবোর্ডের জরুরি তথ্য দেখতে না পেয়ে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার একমাত্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটির প্রধান ফটকের সরকারি সাইনবোর্ডে মা ও শিশুদের বিভিন্ন রোগের প্রতিকার, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সরকারি বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বার্তা থাকার কথা। কিন্তু গত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলাকালে স্থানীয় কিছু ক্রীড়ামোদি ও অতি-উৎসাহী ফুটবল সমর্থক সাইনবোর্ডটি ঢেকে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার ব্যানার টানিয়ে দেয়।

​নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোগো ও তথ্য দৃশ্যমান থাকার কথা থাকলেও, এখানে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলছে ভিনদেশের পতাকা। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চরম উদাসীনতার কারণেই দীর্ঘদিনেও এই ব্যানারটি অপসারণ করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

​রোগীদের দুর্ভোগ ও ক্ষোভ : ​চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র কোনো খেলাধুলা বা ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশের জায়গা নয়। সাইনবোর্ডটি ঢেকে রাখায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও জরুরি দিকনির্দেশনা দেখতে পাচ্ছেন না। অবিলম্বে এই ভিনদেশি পতাকা অপসারণ করে সরকারি সাইনবোর্ডটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

​এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের কর্মী বায়জিদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সাইনবোর্ডটির বিষয়ে আমি জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​স্থানীয়দের দাবি, অনতি বিলম্বে সরকারি সাইনবোর্ডটি উন্মুক্ত করে সেখানে দেশের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখা হোক এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক।