ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

সরাইলে লাশ দাফনের পর ফের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে লাশ দাফনের পর আবারও ব্যাপক সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। এ সময় বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত রোববার সন্ধ্যায় উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন লাঠিসোটা, দা, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বল্লমের আঘাতে ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল হকের ছেলে খাদিম মিয়া নিহত হন।

সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খাদিম মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের পরপরই ধর্মতীর্থ গ্রামের শত শত লোক লাঠিসোটা নিয়ে কালীকচ্ছ বাজারে সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা শতাধিক দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। তবে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়লে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, হামলায় বিভিন্ন দোকান থেকে কোটি টাকারও বেশি মালামাল লুট করা হয়েছে। কয়েকটি দোকান পুড়িয়ে দেওয়ায় বেশ কয়েকটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। পূর্বাপর দুই দিনের এই সহিংসতায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লাশ দাফনের পর থেকেই পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।