মাদারীপুরের শিবচরে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত তিনটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাকাতিতে ব্যবহৃত ভুয়া নম্বর প্লেটসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১টার দিকে শিবচর উপজেলার যাদুয়ারচর এলাকায় ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ভুয়া ডিবি পুলিশের পরিচয়ে একটি মাইক্রোবাস ডাকাতি করে। ডাকাতরা খেলনা পিস্তল, ওয়্যারলেস সেট ও হ্যান্ডকাপ ব্যবহার করে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়।
ভুক্তভোগী সালমান (মাইক্রোবাস চালক), যিনি শেখপুর এলাকার বাসিন্দা, ঢাকা থেকে গাড়ি মেরামত শেষে নিজ এলাকায় ফেরার পথে যাদুয়ারচর এলাকায় পৌঁছালে ডাকাত দল একটি গাড়ি দিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পরে ডিবি পরিচয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে সালমান ও তার সহযাত্রীদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাদের চোখ ও হাত বেঁধে মারধর করে পাঁচ্চর এলাকায় ফেলে রেখে যায়। এ সময় সালমানের মালিকানাধীন চিআরএক্স হাইএক্স মাইক্রোবাসটি ডাকাতি করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিবচর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।
মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের দিকনির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান শুরু করে।
পরবর্তীতে কুমিল্লা, সাভার ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের দেখানো তথ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে ডাকাতি হওয়া তিনটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ভুয়া গাড়ির নম্বর প্লেটসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আল আমিন (৩৬), পারভেজ হোসেন মকর (৩০), জাকির ইসলাম (২৩) ও মো. সবুজ হোসেন (৩৪)।
পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, মাদারীপুর জেলা পুলিশ ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধ দমনে সর্বদা তৎপর। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ সফল অভিযানের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বেড়েছে।
-20260101135136.webp)

