ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মাদারীপুর-২ আসন

ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৬:৪৭ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মাদারীপুর-২ আসন (মাদারীপুর সদরের একাংশ ও রাজৈর) আসনের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য। এ সময় তিনি এ আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত বিজয়ী প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

শুক্রবার (১৩ ফেবুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম এলাকায় নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ৬১,৭৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য পান ৪৬,৪৭৬ ভোট।

ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থক ও কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘাত এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মিল্টন বৈদ্য বলেন, অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল আমি প্রত্যাখ্যান করছি। আশা ছিল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ হবে। প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোট হবে এটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু দেখা গেছে, মাদারীপুর সদরের রাসতি, কুলপদ্বীসহ অনেক কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার আগেই এজেন্টদের কাছ থেকে সই নিয়ে তাদের বের করে দেওয়া হয়। সদরে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়লেও আধাঘণ্টার মধ্যে ১৫ শতাংশ ভোট বেড়ে যায়, যা সন্দেহজনক। বিষয়গুলো নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে হাতেনাতে ধরে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার আগেই বিজয় মিছিল হয়েছে। বিএনপির ডামি প্রার্থী শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তার ভাই লিটন খান ও শিপন খান দেশীয় অস্ত্রসহ মিছিল নিয়ে আমার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। তবে আমার কর্মী-সমর্থকেরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে আমার কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

মিল্টন বৈদ্য বলেন, নির্বাচনে ৪৬ হাজার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমার বাড়িতে দিন-রাত পুলিশ পাহারা দিচ্ছে, কিন্তু আমার কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের বাড়িতে কে পাহারা দেবে? রাজৈর এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিজয়ী প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়াকে সহিংসতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করছি—সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করুন। সংঘাত থেকে সরে আসুন। নির্বাচনে যে যার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। এখানে কেউ সহিংসতা চায় না। দয়া করে সহিংসতা করবেন না। এতে দিনশেষে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো।