মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার একটি বক্তব্যের ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিওতে সাইদ উদ্দিন আহমাদকে বলতে শোনা যায়, ‘যিনি (বিএনপি প্রার্থী) আমার ক্যান্ডিডেট ছিলেন, তিনি বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি করবেন না! আরে আমি হানজালা বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এ দেশে থাকতে পারবে না!’
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বাহাদুরপুরে এক ইফতার মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালাকে বলতে শোনা গেছে, ‘এ দেশের প্রবাসী ভাইয়েরা আমাদের বিশ্বাস করেছেন। এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ আমাদের বিজয়ী করেছে। এজন্য আমাদের জমা-খরচ দিয়ে রাজনীতি করতে হবে, বিষয়টি এ রকম নয়। আমি গত কয়েক দিন যাবৎ ভালোমতো খেয়াল করেছি, আমাদের কিছু ভাইয়েরা খুব লেখালেখি করছেন এবং খুব কথা বলছেন, তারা অন্য কেউ নয়, তারা শিবচরের বিএনপি ভাইয়েরা। কিন্তু আমি তাদেরকে একটি কথা বলতে চাই, আপনারা কি এটা মনে করছেন না, আমি হানজালা নির্বাচিত হবার পর আমার একটা নেতাও কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি, আমার একটা নেতা হুমকি-ধামকি দেয় নাই! আমি হানজালা এমপি হবার আগে আমার কতটুকু পাওয়ার (শক্তি) ছিল এই শিবচরের মাটিতে তা আপনারা দেখেন নাই? তাহলে আপনারা কি মনে করছেন? আমি চুপ করে আছি। কারণ, আমি শান্তি চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমি শিবচরের প্রত্যেকটা মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি শিবচরের প্রতিটি সদস্যকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমার চুপ করে থাকা মানে আমার কোনো দুর্বলতা নয়। যদি মনে করেন হানজালার চুপ করে থাকা দুর্বলতা, তাহলে সেটা আপনাদের ভুল, আপনার চিন্তায় ভুল করেছে। হানজালা চুপ করে থাকা মানে হানজালা শিবচরের মাটিতে শান্তি চায়।’
সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, ‘যিনি (বিএনপি প্রার্থী) আমার ক্যান্ডিডেট ছিলেন, তিনি বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করবেন না। আরে, আমি হানজালা বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এ দেশে থাকতে পারবে না। আপনারা রাজনীতি করেন শিবচর উপজেলা নিয়ে, হানজালা রাজনীতি করে পুরো বাংলাদেশ নিয়ে। আপনারা চিল্লাচিল্লি করবেন ক্লাবে খেতে, হানজালা চিল্লাচিল্লি করবে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে। তাহলে আমি শান্তি চাই। আমার চুপ করে থাকা মানে বারবার বলছি এটা কোনো দুর্বলতা নয়। আমি নতুনত্বের রাজনীতি চাই। আমি শিবচরে কোনো প্রতিহিংসা-আধিপত্যের রাজনীতি আগামীতে দেখতে চাই না। এজন্য বলছি, আসুন ভালোবাসা দিয়ে কাজ করি, আসুন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি।’
তিনি বলেন, ‘আমার জায়গায় যদি আজকে অন্য কেউ হতো, তাহলে আপনাদের বাড়িঘরে কাউকে থাকতে দিত না। আমার জায়গায় যদি অন্য কেউ হতো, কাউকে ঠিকমতো চলতে দিত না, বাড়িঘর থেকে বের হতে দিত না। আমি আপনাদের বাক্স্বাধীনতা দিয়েছি। আমার নামে লেখালেখি (সামাজিক মাধ্যমে) করবেন, আমি সেই স্বাধীনতা শিবচরের মানুষকে দিয়েছি। আগের এমপির বিরুদ্ধে এ দেশের একজনও কেউ কলম ধরতে পারে নাই। আমি শিবচরের মানুষকে সেই বাক্স্বাধীনতা দিয়েছি!’
এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আসলে শিবচরে আমি নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমার কোনো লোক এ পর্যন্ত কারও সঙ্গে কোনোরূপ খারাপ আচরণ করেনি। এই সুযোগও আমি দেব না। সেখানে বিএনপির লোকজন আমার লোকজনকে হুমকি দেয়। আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়। এরই প্রেক্ষিতে আমি একটা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কথাটা বলেছি। মূলত, বিএনপি বলতে শিবচর বিএনপিকে বুঝিয়েছি। অনেকে আমার বক্তব্য কেটে কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি শিবচরে কোনো অন্যায় রাজনীতি হতে দেব না। সাধারণ মানুষ যেন ভালো থাকে, সেই চেষ্টাই করে যাব।’


