দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেছেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আতাউর রহমান আতা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। দল একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমি সেটি মেনে নিতে পারিনি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় দল আমাকে বহিষ্কার করতেই পারে। দলের কাজ দল করেছে, আমার কাজ আমাকে করতে হবে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দলে বহিষ্কার মানেই শেষ নয়। অনেকেই বহিষ্কারের পর আবার প্রমোশন পেয়েছেন। আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। আলহামদুলিল্লাহ।’
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আতাউর রহমান আতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেন আতাউর রহমান আতা। আপিলে তিনি দাবি করেন, আফরোজা খানম রিতা ঋণখেলাপি এবং তার বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগ কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা পায়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আতাউর রহমান আতার বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।



