মানিকগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভুয়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিথা গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে মো. মানোয়ার হোসেন এবং বাথুলী গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মো. আরশেদ আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানোয়ার, আরশেদ এবং জিয়াউল নামের তিন ব্যক্তি নিজেদের ঢাকার ধামরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের লোক পরিচয় দিয়ে অবৈধ মাটিকাটা ও ভেকু পরিচালনার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সোনাতলা গ্রামে উপস্থিত হয়। এ সময় তারা এসিল্যান্ডের সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে এবং নিজেদের ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়।
প্রতারক চক্রের সদস্য জিয়াউল স্থানীয় ভেকু ব্যবসায়ী চান মিয়াকে ফোন করে জানায় যে, ধামরাইয়ের এসিল্যান্ড স্যার এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। অবৈধ ভেকু দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগে একটি ভেকু জব্দ করা হয়েছে এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে চান মিয়া জরিমানার এক লাখ টাকা তাদেরকে পরিশোধ করেন এবং বাকি এক লাখ টাকা সকালে দেওয়ার কথা জানান।
পরবর্তীতে প্রতারকরা স্থানীয় আরেক ভেকু ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেনকে ফোন করে একইভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলে। এ সময় চান মিয়া জরিমানার টাকার রশিদ চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এরপর তাদেরকে আটক করে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে জিয়াউল কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা মানোয়ার ও আরশেদ আলীকে আটকে রাখে। পরে সদর থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের করে এবং জরিমানার নামে হাতিয়ে নেওয়া এক লাখ টাকা উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জিয়াউল নামের এক ব্যক্তির নির্দেশ মোতাবেক ধামরাইয়ের এসিল্যান্ডের গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন মানোয়ার ও আরশেদ আলী। তারা জানান, জিয়াউল উপজেলা প্রশাসনের একজন গাড়িচালক। তার নির্দেশেই এই টাকা নিতে এসেছিলেন তারা।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভুয়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’
এদিকে বিষয়টি জানতে ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিদওয়ান আহমেদ রাফির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


