চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত পাহাড়-হাওড় পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এবং দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনটি নানা কারণে জেলার মধ্যে আলোচিত।
এখানে বিএনপি ও ১০-দলীয় জোটের পাঁচ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতা কোটিপতি। তাঁদের বিপরীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী প্রীতম দাশ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। হলফনামায় দেওয়া তথ্যমতে, তাঁর বার্ষিক আয় ৭২ হাজার টাকা।
হলফনামায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে হাজি মুজিব ব্যবসা ও কৃষি থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২১ লাখ টাকা। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- কমলগঞ্জ ও ঢাকায় দুই কোটি ২১ লাখ ২১ হাজার ২৮০ টাকা মূল্যের দুটি বাড়ি ও একটি ফ্ল্যাট। বিবি স্টেডিয়াম সুপার মার্কেটে ছয়টি দোকান রয়েছে, যেগুলোর মূল্য ৯০ লাখ দুই হাজার ২৮৭ টাকা।
এছাড়া এক কোটি ৫১ লাখ ১৮ হাজার টাকা মূল্যের দুই হাজার ১৫৫.৭৬ শতক কৃষিজমি রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নামে এক কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ৪১৫ টাকা মূল্যের উত্তরা, খিলক্ষেত ও চকবাজারে প্লট, জমি ও শপিংমলে চারটি দোকান রয়েছে। এছাড়া স্ত্রী ও তাঁর নামে ৫০ ভরি করে স্বর্ণালংকার রয়েছে। জেনারেল ভিডিও সেন্টারের নামে তাঁর ছয় কোটি তিন লাখ ৯৮ হাজার টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, হাজি মুজিবের নামে চারটি মামলা বিচারাধীন। ইতোমধ্যে ১২টি মামলা থেকে খালাস ও তিনটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.কম উল্লেখ করা হয়েছে।
অপরদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মহসিন মিয়ার পেশা ব্যবসা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। হলফনামায় তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এক কোটি ৬৭ লাখ ১৯ হাজার ৭৯৪ টাকা। তাঁর রয়েছে চার কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ টাকা মূল্যের ৫১.৭২২৮ একর জমি।
এছাড়া ৯ কোটি ২৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৬ টাকা দামের বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ১২ কোটি ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকার। তাঁর ব্যাংকঋণ দুই কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৮৯৯ টাকা। কোম্পানি থেকে বছরে সম্মানী পান ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯০০ টাকা। তাঁর নগদ অর্থ ১০ লাখ ২৩ হাজার ৭৪০ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ৬৮ লাখ ১১ হাজার ৫৯৫ টাকা।
এক কোটি এক লাখ ২৩ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি রয়েছে। ২০ ভরি স্বর্ণের অধিগ্রহণমূল্য দেখানো হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তাঁর নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলা বিচারাধীন। এছাড়া ১৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, দুটি খারিজ হয়েছে, একটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এবং নয়টি মামলা স্থগিত রয়েছে।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুর রব পেশায় শিক্ষক ও আইন পরামর্শদাতা। তাঁর বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১১ লাখ ছয় হাজার ৩১৯ টাকা। দেড় লাখ টাকা অধিগ্রহণমূল্যের স্বর্ণ রয়েছে। সিলেট ও কমলগঞ্জে এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩.৬৫ একর জমি রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এক কোটি টাকা মূল্যের ঘরসহ বাড়িও রয়েছে তাঁর।
এদিকে, এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাশের বার্ষিক আয় ৭২ হাজার টাকা। কৃষি তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং ১১টি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। তাঁর নগদ অর্থ তিন লাখ টাকা। নির্ভরশীলদের নামে রয়েছে আট লাখ টাকা।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১০ লাখ টাকা। এক লাখ আট হাজার টাকার শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও বন্ড রয়েছে। নিজ নামে তিন লাখ টাকা মূল্যের ১৫ শতক জমি এবং নির্ভরশীলদের নামে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১৮০ শতক জমি রয়েছে। চার শতক ভূমির ওপর চার লাখ টাকা মূল্যের একটি বাড়ি রয়েছে।


