জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মোট ৮৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতীতে ওইসব কেন্দ্রে কোনো ধরনের গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে কি না, কেন্দ্রটি কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির বসতবাড়ির নিকটবর্তী কি না, দুর্গম এলাকায় অবস্থিত কি না, কেন্দ্রের চারপাশে সীমানা প্রাচীর রয়েছে কি না এবং অপরাধ করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, পরিসংখ্যান ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে উপজেলার সব ভোটকেন্দ্র পর্যালোচনা করে ২৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৪টি কেন্দ্রকে সাধারণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ পুলিশের বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে থাকবে বডি-অন ক্যামেরা। কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় পুলিশের দৃশ্যমান টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শহর পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব মাঠে কাজ করছে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট (ফেজ-২)’ চলমান রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা সংশয় ও উদ্বেগ থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।


