ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় রেজিনা নাসের

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ১০:০০ এএম
রেজিনা নাসের। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সংরক্ষিত নারী আসনে মৌলভীবাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু রেজিনা নাসের। রেজিনা নাসের জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের পুত্রবধূ এবং মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমানের স্ত্রী

ওয়ান ইলেভেনের পর, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম. সাইফুর রহমান সিলেট সদর ও মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে অংশগ্রহণ করেন। তখনই বিএনপির রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে রেজিনার।

এরপর তিনি শ্বশুরের নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বার্তা পৌঁছে দেন এবং উঠান বৈঠক ও নির্বাচনি সভায় অংশ নেন।

নির্বাচনি এলাকার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। স্বামী নাসের রহমান জেলে থাকলেও নির্বাচনি কার্যক্রমে তার অভাব বোঝাতে দেননি রেজিনা।

২০১৮ সালে স্বামী নাসের রহমানের নির্বাচনি এলাকায় কাজ করেন রেজিনা। এ নির্বাচনে নারী ভোটারদের তৃণমূল স্তরে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন তিনি।

তিনি ও তার কন্যা আমিরা রহমান রাতদিন সমানভাবে উঠান বৈঠক এবং নির্বাচনি সভা-সমাবেশে অংশ নেন। বিশেষ করে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও সভা আয়োজন করে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করেন। ফলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হন।

এবার সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হয়ে মৌলভীবাজার ও বৃহত্তর সিলেটের নারীদের জাগরণের জন্য জাতীয় সংসদে বিশেষ ভূমিকা রাখতে চান রেজিনা নাসের।

তিনি বলেন, শ্বশুর এম. সাইফুর রহমানের সুনাম কাজে লাগিয়ে সিলেট বিভাগের মতো কনজারভেটিভ এলাকায় বিএনপির জনপ্রিয় সংগঠনে নারীদের জাগরণ ঘটিয়ে দলকে শক্তিশালী করতে চাই।

তিনি আশাবাদী, দল যদি তাকে বিবেচনা করে, তাহলে সিলেট বিভাগের নারীদের মাঝে বিএনপির আদর্শ ও ৩১ দফার জাগরণ ঘটাতে সক্ষম হবেন।

সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের উজ্জ্বল বলেন, ম্যাডাম রাজনীতি বাস্তবমুখী এবং কাজের প্রতি দৃঢ়। জাতীয় নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। বড় বড় মহিলা সমাবেশ আয়োজন করে মাঠ গরম করছেন।

একাটুনা ইউনিয়নের আব্দুল করিম ইমানী বলেন, ম্যাডামের কথায় এমন ক্ষমতা আছে যে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারেন।

রাজনগরের মুন্সিবাজার ইউনিয়নের আব্দুর রহমান বলেন, নাসের রহমানের নির্বাচনি তৃণমূলের কাজ রেজিনা এবং তার পরিবারের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। নারী ও হিন্দু ভোটাররা তার কথায় কেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন। আমরা চাই তিনি এমপি হোক।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য মো. আবদুল মুকিত বলেন, রেজিনা নাসের একজন উচ্চশিক্ষিত এবং কর্মীবান্ধব নেতা। সংরক্ষিত মহিলা আসনে তাকে মনোনীত করলে দল উপকৃত হবে। তিনি হিন্দু-মুসলিম চা বাগানের নারী-পুরুষ সবার কাছে প্রিয় ও আস্থাভাজন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাশ বলেন, রেজিনা নাসের এই আসনে বিএনপির বিপুল ভোটের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যদি তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়, দল উপকৃত হবে।

রেজিনা নাসের বলেন, আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। শ্বশুর এম. সাইফুর রহমানের সুনাম কাজে লাগিয়ে সিলেট অঞ্চলে নারীদের জাগরণ ঘটিয়ে দলকে শক্তিশালী করতে চাই। আমি আশাবাদী, দল যদি আমাকে বিবেচনা করে, সিলেট বিভাগের নারীদের মাঝে বিএনপির আদর্শ ও ৩১ দফার জাগরণ ঘটাতে সক্ষম হব।