ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মৌলভীবাজারের হাওরে বৃষ্টিতে আবারও বাড়ছে পানি, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৬:৪২ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে কৃষকের দুশ্চিন্তা আবারও বেড়েছে। কিছুটা বৃষ্টিহীন সময়ে স্বস্তি ফিরলেও শুক্রবার দুপুরের পর নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মৌলভীবাজার জেলার কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাওর এলাকায় গিয়ে অনেক কৃষকই নিজেদের ডুবন্ত ফসল আবার ভেসে উঠছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে হাকালুকি হাওর, কাউয়াদিঘি হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে থাকা ধান দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকায় তা পচে নষ্ট হচ্ছে। যারা আগে ধান কেটে জমে রেখেছেন, পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় সেগুলো অঙ্কুরোদগম শুরু করেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

এদিকে এলাকায় শ্রমিক সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত পানির কারণে অনেকেই ধান কাটতে মাঠে নামতে চাইছেন না। কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহারেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে হাওরাঞ্চলে পানি বেড়েছে। শুধু এপ্রিলের ২৭ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত ২৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এত কম সময়ে এত বেশি বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ৮টি পাম্পের মধ্যে ৬টি চালু রাখা হয়েছে, তবে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টি কমলে ৪-৫ দিনের মধ্যে পানি কমে আসতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরর উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, জেলায় প্রায় ৬২,৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে হাওর এলাকার বোরো ধানের বড় অংশই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।