ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের পানিবন্দি ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বন্যাকবলিত এলাকায় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পরে দুপুরে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে বন্যার্তদের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান ও মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম।
এ সময় তারা বন্যার্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি ও জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি মৌলভীবাজার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বিশেষ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। ক্যাম্পে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, ওরস্যালাইন এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে ১০০টি পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, লবণ, আলু, চিড়া, মুড়ি ও বিস্কুটসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বই পালন করছে না, মানবিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে ধৈর্য, সাহস ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার আহ্বান জানান।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে তাদের দুর্ভোগ কমাতে জেলা পুলিশের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময় সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ারুল হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, পুলিশ সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক বন্যার্ত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা বাংলাদেশ পুলিশ, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এবং মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে আশা প্রকাশ করেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরাও বন্যার্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসবেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

