ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গজারিয়া-চরকিশোরগঞ্জ নৌপথে ডাকাতি আতঙ্ক

নিরাপত্তা না বাড়িয়ে সন্ধ্যার পর ট্রলার বন্ধে যাত্রীদের ক্ষোভ

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ঘাটে যাত্রীবাহী ট্রলার। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও নারায়ণগঞ্জের চরকিশোরগঞ্জ নৌরুটে গত ৫ জানুয়ারি যাত্রীবাহী ট্রলারে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে নৌপথে টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টার পর ট্রলার চলাচল বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রলার চালক ও যাত্রীরা।

এই রুটের নিয়মিত ট্রলার চালকদের অভিযোগ, ডাকাতির ঘটনার পর নৌ পুলিশ নদীতে টহল না দিয়ে ফোন করে ট্রলার বন্ধ রাখতে বলছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রী, যারা অফিস শেষে সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরেন।

এ রুটের নিয়মিত দুই ট্রলার চালক জানান, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের ঘাঁটি কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও ঘটনার সময় কেউ এগিয়ে আসেনি। এ বিষয়ে গজারিয়া নৌ পুলিশের দাবি, ডাকাতির ঘটনার এলাকা তাদের আওতাভুক্ত নয়।

অন্যদিকে, কলাগাছিয়া নৌ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ওই এলাকা গজারিয়া নৌ পুলিশের অধীন। এভাবে একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন দুই থানার নৌ পুলিশ কর্মকর্তারা।

ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং সন্ধ্যার পর ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় নদী পারাপারের সময় সন্দেহজনক একটি স্পিডবোট চলাচল করতে দেখে যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, গজারিয়া অংশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোস্টগার্ডের কাছ থেকেও তেমন কোনো সহায়তা পাননি যাত্রীরা বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, ট্রলার চলাচল বন্ধ না করে নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল জোরদার করা হোক এবং দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার করে নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক। এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।