মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোটযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মুন্সীগঞ্জের এ আসনে এবার দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শীর্ষ নেতাদের বহিষ্কার এবং পদধারী নেতাদের গণপদত্যাগে রাজনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা গেছে।
এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতন এবং সদ্য বহিষ্কৃত জেলা সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ। জেলার তিনটি আসনে মোট ১৯ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘ বিরতির পর সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে নতুন ভোটাররা ভোটদানের সুযোগ পেয়ে উৎসাহিত।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মোট আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মো. কামরুজ্জামান রতন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য বহিষ্কৃত জেলা সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ১১-দলীয় জোটের রিকশা প্রতীকের নূর হোসাইন নূরানী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের সুমন দেওয়ান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনারস প্রতীকের আনিছ মোল্লা, সিপিবির কাস্তে প্রতীকের শেখ মো. কামাল হোসেন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের আরিফুজ্জামান দিদার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল প্রতীকের শেখ মো. শিমুল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। সাংগঠনিক তৎপরতায় বিএনপি এগিয়ে থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্থানীয় শক্তির কারণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ৪৬৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৬, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৮৯ এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। চূড়ান্ত ভোট কেন্দ্র ১৬৯টি, পুরুষ কক্ষ ৪৮৫টি, মহিলা কক্ষ ৫৩২টি এবং অপ্রত্যাশিত কক্ষ ২৯টি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৪০টি, যার মধ্যে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে ১৩৩টিতে।
ভোটাররা আশা করছেন, নির্বাচিত প্রার্থী হবে সাহসী, বাস্তবধর্মী এবং কাজের মানুষ। নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, কর্মসংস্থান ও মাতৃস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি আপস করবেন না। তরুণ ও প্রবাসী পরিবারকে এলাকার উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে এবং শহরের জলাবদ্ধতার জন্য টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
এদিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট পেপার প্রস্তুত প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে, একটি সুন্দর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।



