মুন্সীগঞ্জে চলতি মৌসুমে আলুর ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারমূল্য কম হওয়ায় চাষিরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। আলুর দাম কম থাকায় খুচরা বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করলেও চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামেই আলু বিক্রি করছেন। জেলার ছয়টি উপজেলায় আলু তোলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
তবে আলু উত্তোলনের এই সময়েও কৃষকদের মাথায় হাত। গত বছরের লোকসানের পর এবারও লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবার দাম কম থাকার পরও জমিতে মিলছে না পাইকারের দেখা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাট-বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর জমিতে পাইকারি দরে আলু বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন প্রতি কেজি ৭ থেকে ৮ টাকা।
অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ টাকা। কিন্তু কম দাম থাকার পরও জমিতে পাইকার না আসায় কৃষকরা আলু বিক্রি করতে পারছেন না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। তবে আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর কৃষিজমিতে। এ পরিমাণ জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত আলু উত্তোলন করা হয়েছে ২ হাজার ৬৫২ হেক্টর জমি থেকে।
লৌহজং উপজেলার কলমা গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, “এ বছর তিনি ৮ কানি জমিতে আলু আবাদ করেছেন। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু কম দাম থাকায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ঋণ করে টাকা এনে আলু আবাদ করেছেন।”
তিনি বলেন, নিজেও অনেক পরিশ্রম করেছেন। সব মিলিয়ে এখন তিনি চিন্তায় আছেন—ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৮ টাকা দরে। অথচ উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামের কৃষক মো. নুরনবী মুন্না বলেন, ‘এ বছর ২৪০ শতাংশ জমিতে আলু আবাদ করেছি। আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাইকারদের কাছে এক মন আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ৩০০ টাকায়। সেই হিসাবে প্রতি কেজি আলুর দাম দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৭ টাকা। এতে উৎপাদনের অর্ধেক খরচও উঠছে না। দাম কম থাকার পরও জমিতে পাইকার পাওয়া যাচ্ছে না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি আলু যাচ্ছে প্রায় ১১ টাকায়। পাইকারি বাজারে যাচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ টাকা এবং খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৮ টাকা দরে। আশা করা যায় সামনে আলুর দাম বাড়বে। জাতীয় পর্যায়ে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকরা যদি সারের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে আনতে পারেন, তাহলে উৎপাদন খরচ কমতে পারে। এতে কৃষকরা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।’



