ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ‘স্বপ্নপুরী’, সংস্কারে নতুন সম্ভাবনা

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে একসময়কার জনপ্রিয় ‘স্বপ্নপুরী’ সিনেমা হলটি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই সিনেমা হলটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে স্মৃতির পাতায়।

তবে বর্তমানে এর সংস্কারকাজ চলছে। সংস্কার শেষে আবারও নতুনভাবে দর্শকদের জন্য হলটি চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিনেমা হলটির চারপাশে ভাঙাচোরা অবস্থা বিরাজ করছে। ভেতরে চলছে মেরামত কাজ। এর মধ্যেই বিকেল ৩টার শোতে মাত্র ৬ জন দর্শককে সিনেমা উপভোগ করতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এমন দৃশ্য এলাকাবাসীর মাঝেও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দর্শক কমতে শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং নতুন বিনোদন মাধ্যমের কারণে সিনেমা হলটির জনপ্রিয়তা কমে যায়। একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় এর নিয়মিত প্রদর্শনী কার্যক্রম।

বর্তমানে হলটির অবকাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দেয়ালে ফাটল, আসনগুলো নষ্ট এবং চারপাশ আগাছায় ভরে গেছে। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার বা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ না থাকায় এটি প্রায় পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৭৯ সালের ৩ জুন আলহাজ আ. আউয়াল সিনেমা হলটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর এটি দীর্ঘদিন এলাকার মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। প্রতিদিন বিভিন্ন বাংলা সিনেমা প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের ভিড়ে মুখর থাকত হল প্রাঙ্গণ।

প্রায় ৩৩ বছর আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে হলটির দায়িত্বে রয়েছেন তার ছেলে আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল। তবে লোকবল সংকটসহ নানা কারণে গত প্রায় ৮ বছর ধরে সিনেমা হলটি বন্ধ ছিল।

সিনেমা দেখতে আসা মনির হোসেন বলেন, প্রায় ৭ বছর পর সিনেমা দেখতে এলাম। মন ভালো ছিল না, তাই একটু সময় কাটানোর জন্য বাংলা সিনেমা দেখতে এসেছি।

স্থানীয় জসিম উদ্দিন বলেন, ২০ বছর আগে সিনেমা হলটি এলাকায় খুব জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সঠিক পরিচালনার অভাবে এখন এটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

সিনেমা হলের পরিচালক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার সংস্কারকাজ শুরু করেছি। লোকবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে হলটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি। এখন নতুনভাবে সাজিয়ে বাবার প্রতিষ্ঠিত এই সিনেমা হলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাই। কাজ শেষ হলে পুরোদমে আবার চালু করা হবে।

স্থানীয়দের আশা, সংস্কারকাজ শেষ হলে ‘স্বপ্নপুরী’ সিনেমা হলটি আবারও দর্শকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে এবং হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।