ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পুলিশকে কুপিয়ে আসামি ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৭

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
কোতোয়ালি মডেল থানা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ নগরীতে এজাহারভুক্ত মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। 

এ সময় হামলাকারীরা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে এবং হাতকড়াসহ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান কোতোয়ালি মডেল থানায় ওসি নাজমুস সাকিব।

তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ ও এলাকাবাসী জানায়, কয়েকদিন আগে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দিঘারকান্দা এলাকার আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজনের নামে থানায় একটি মামলা করা হয়। বর্তমানে রাসেল রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে থানায় যাওয়ার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠিসোটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হাতকড়া পরিহিত আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে ৫ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আরিফুলের বাবা সাগর আলীকে আটক করা হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নাজমুস সাকিব জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলামকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।