ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে ছুরিকাঘাতে নজরুল ইসলাম (৪৫) নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে বিএনপির ৬৩ জন নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে সোলায়মান বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ধোবাউড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নজরুল ইসলাম ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার উত্তর গামারীতলা গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে মো. আদম আলী (৫৪), চন্দ্রকোনা গ্রামের মৃত আছম আলীর ছেলে মো. দুলাল মিয়া এবং ইব্রাহিম (৫৫)।
গ্রেপ্তারকৃত মো. আদম আলী ঘোষগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দুলাল মিয়া ও ইব্রাহিম বিএনপির কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল তার নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে ফিরে যাওয়ার সময় বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সমর্থক ফরহাদ, আজহারুল, শাহজাহান মেম্বার, আদম আলীসহ কয়েকজন তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর রাতেই বাজার ও উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকরা। তারা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান।
শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকরা। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল বলেন, ‘আমাদের অফিস উদ্বোধন করে বের হওয়ার সময় প্রিন্স ভাইয়ের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় ফরহাদ, আজহারুল, শাহজাহান মেম্বার ও আদম আলী নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমার কর্মী হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এটি পারিবারিক কোনো সমস্যা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুলাল ও তার বোন জামাইয়ের মধ্যে আগের বিরোধ ছিল। কেউ যদি দলের সমর্থক হয়ে অপরাধ করে থাকে, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধোবাউড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত নজরুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


