ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর অভিযোগে পাঁচ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিবি পুলিশের পোশাক, হাতকড়া, ওয়াকিটকি, ভুয়া আইডি কার্ডসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ভুয়া ডিবি পুলিশের আইডি কার্ড দেখিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার পর স্থানীয় জনতার হাতে তিন যুবক আটক হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি হাতকড়া, একটি ওয়াকিটকি, দুটি ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, পাঁচটি ভুয়া আইডি কার্ড, ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজপত্র, একটি মনিটর, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি কালার প্রিন্টার ও সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জেলার ত্রিশাল উপজেলার আবুল কালামের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন (৩৫), রাকিবুল হাসান রনি (২৮), মোফাজ্জল হোসেন (৩০), সারোয়ার হোসেন (২৩) ও আশরাফুল আলম (২৫)।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ সাইফ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মধ্যপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নাটক সাজায় ওই চক্র। এ সময় তারা কামাল ও হারুন নামে দুই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তার করে এবং পরে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়।
টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ওই ব্যক্তিদের ঘেরাও করেন। এ সময় চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হন স্থানীয়রা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে এই চক্রটি ডিবি পুলিশের পোশাক পরিধান করে নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা করে আসছিল। দিনের বেলায় টার্গেট নির্ধারণ করে রাতে তারা অভিযান পরিচালনা করত। কখনো মাদকবিরোধী অভিযান, আবার কখনো রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তারের নামে তারা টাকা হাতিয়ে নিত।
পুলিশ আরও জানায়, এ চক্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও জড়িত থাকতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা এএসএম আব্দুল্লাহ বলেন, বুধবার রাতে হাতকড়া ও ওয়াকিটকি নিয়ে তারা অভিযানের নাটক করে। দুজনকে আটক করে টাকা দাবি করায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে।
ওসি মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও দুজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও সদস্য জড়িত রয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তাদের আদালতে পাঠানো হবে।



