ময়মনসিংহের নান্দাইলে নদী পুনর্খননের সময় মানুষের মাথার কঙ্কালসহ কয়েকটি হাড় উদ্ধার করার খবর পাওয়া গেছে। তবে, কঙ্কাল উদ্ধারের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো খোঁজ নেয়নি পুলিশ। এমনকি এমন তথ্য শুনেছেন বলে স্বীকার করলেও নির্বাচনের কারণে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানায় পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলায় নরসুন্দা নদী পুনর্খননের সময় মাটির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে মানুষের মাথার খুলি। একই সাথে কিছু মানুষের হাড় উদ্ধার করা হয়। তবে, শিশুরা হাড়গুলো কুড়িয়ে নিয়ে গেছে।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার আচারগাও ইউনিয়নের ঝাউগড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দা নদী ভেকু দিয়ে খননের সময় নদীর মাঝখান থেকে কয়েকটি হাড় ও মাথার খুলির সন্ধান পাওয়া যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ওই হাড় ও মাথার খুলি দেখতে সেখানে ভিড় করেন। তবে মাথার খুলি কত দিন আগের তা আন্দাজ করতে পারেননি স্থানীয় লোকজন।
সুত্র জানায়, মাথার খুলিটি সংরক্ষণ করে রেখেছেন ওই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে দীন ইসলাম। তিনি মনে করেন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ যদি খোঁজ করতে আসে তাহলে তিনি হস্তান্তর করবেন।
সুত্র জানায়, সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর পক্ষ থেকে নরসুন্দা নদীর পুনর্খনন কাজ শুরু করা হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝাউগড়া এলাকায় এক্সকাভেটর দিয়ে খনন করার সময় মানুষের একটি হাড় ও মাথার খুলি বেরিয়ে আসে। এ খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
স্থানীয় দীন ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, নিজের বাড়ির সামনে নদীর মাটি কাটার সময় মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় দেখতে পাওয়া গেছে। তবে হাড়গোড়গুলো ছোট ছোট শিশুরা হাতে হাতে নিয়ে অন্যত্র ফেলে দিলেও মাথার খুলিটি সংরক্ষণে রেখেছি। কত দিন আগের তা অনুমান করা সম্ভব হয়নি।
আব্দুল জলিল নামে এক বৃদ্ধ বলেন, দুর্বৃত্তরা হয়তো কোনো মানুষকে হত্যার পর নদীর পাড়ে লাশ পুঁতে রাখতে পারে না হয় কঙ্কালগুলো হয়তো মুক্তিযুদ্ধের সময় পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে এত দিন আগের হাড়গোড়ও মাথার খুলি পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে ওপরের পাটিতে যে দাঁত রয়েছে তা এখনো আটকে আছে, দাতগুলো ছোট।
নান্দাইল থানার ওসি মো. আল-আমীন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু নির্বাচনের কারণে কোনো খোঁজ খবর নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেন খোঁজ নিলেন না, জানতে চাইলে তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, নির্বাচনের কাজে আমি ব্যস্ত। আপনি যা খুশি লেখেন।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। তবে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন