আদালতের দেওয়া ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড মাথায় নিয়েই প্রকাশ্যে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ভিপি আলমগীর আলম বিপ্লব। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি প্রকাশ্যেই রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন।
অভিযোগ উঠেছে, হালুয়াঘাট থানা পুলিশের ‘রহস্যজনক’ নির্লিপ্ততায় তিনি বছরের পর বছর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রিমিয়ার ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখা কর্তৃক দায়েরকৃত অর্থঋণ মামলা নং–৩৭/২০১৮-এ আলমগীর আলম বিপ্লবকে ‘অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩’-এর ৩৪(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগে ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
প্রিমিয়ার ব্যাংক সূত্র জানায়, সুদ ও জরিমানা যোগ হয়ে বর্তমানে ব্যাংকের মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
২৬ বার তাগিদ, তবুও অধরা
সর্বশেষ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) অর্থঋণ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ (ভারপ্রাপ্ত) শেখ নাজমুন নাহার হালুয়াঘাট থানার ওসি বরাবর একটি কড়া তাগিদপত্র পাঠান। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম ওয়ারেন্ট জারির পর থেকে এ পর্যন্ত ২৬ বার তাগিদ দেওয়া হলেও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আদালতের আদেশে বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওয়ারেন্ট তামিল না হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম অযথা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তিনি আগামী ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমগীর আলম বিপ্লব পলাতক নন; বরং প্রকাশ্যেই সব কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। ময়মনসিংহ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের প্রায় প্রতিটি সভা-সমাবেশেই তাকে সামনের সারিতে দেখা যায়। এমনকি সোমবার সকালেও তিনি একটি রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য দেন।
প্রিমিয়ার ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার রাহাত হোসেন বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় তিনি ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাকে গ্রেপ্তার করছে না। বিপুল অঙ্কের এই টাকা আদায় না হওয়ায় আমাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে হালুয়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামির এভাবে ঘুরে বেড়ানো দুঃখজনক। ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া সোমবার রাতে বলেন, সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামির পলাতক অবস্থায় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এসপিকে নির্দেশ দেওয়া হবে।


