ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা, আকাশচুম্বী লেবুর দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

আসন্ন রমজান ঘিরে ময়মনসিংহের বাজারে বেড়েছে মাংস, লেবু ও শসাসহ কয়েক প্রকার সবজির দাম। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকায়, গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা। আকাশচুম্বী লেবুর দাম, প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজার মেছুয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি কোথাও ১৮০ এবং কোথাও ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সংবাদকর্মী দেখে তড়িঘড়ি করে ১৮৫ টাকার মুরগির দাম নির্ধারণ করা হয় ১৮০ টাকা। দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ ক্রেতারা।

মুরগি কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৪-৫ দিন আগেও ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৭০ টাকা ছিল। আজ ১৮৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে, কোথাও ১৮০ টাকা। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এসব করছেন।

এ সময় মুরগি ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বোর্ডে লেখা চার্ট সংশোধন করে ব্রয়লার প্রতি কেজি মুরগি ১৮৫ টাকার স্থলে ১৮০ টাকা লেখেন। তিনি বলেন, মানুষের কাছে দাম একটু বেশি না চাইলে চলে না। তারা কোনো না কোনোভাবে আমাদের ৫-৭ টাকা কম দিয়ে থাকেন।

আরেক ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, ‘শুধু ব্রয়লার মুরগি নয়, দাম বেড়েছে সোনালি ও দেশি মুরগিতেও। ৫০০ টাকা কেজির দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়, ২৭০ টাকার সোনালি মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজিতে। আমাদের কিছু করার নেই। শীতে অনেক মুরগি মারা গেছে, তাই দাম একটু বেড়েছে।’

কয়েক দিন আগে গরুর মাংস ৭৩০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও আজকের বাজারে কেজিতে ৭০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে গরু কম উঠছে, তাই দাম একটু বেশি রাখা হচ্ছে।

ক্রেতা আফরোজা সুলতানা বলেন, ‘রমজান মাস এলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। ৮০০ টাকা কেজির কম কোনো দোকানেই গরুর মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাধ্য হয়ে আমরা বেশি দাম দিয়েই গরুর মাংস কিনছি।’

রেকর্ড পরিমাণ দাম বেড়েছে লেবু ও শসার। রমজানে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লেবু ও শশার দাম বেশি হওয়ায় ক্ষোভ ঝরাচ্ছেন ক্রেতারা।

ক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, ‘প্রতি হালি লেবুর দাম চাওয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন ৪০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। ৪০ টাকার হালি লেবুর মান খুবই খারাপ। রমজান এলেই নানা অজুহাতে এসবের দাম বাড়ানো হয়। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। শসাও বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে কেজিতে। বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে আমাদের মতো মানুষের চলা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

ব্যবসায়ী হান্নান মিয়া বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে লেবুর দাম বাড়েনি, প্রায় মাসখানেক ধরেই চড়া দাম। কারণ আমদানি কম।’

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘রমজান কেন্দ্র করে যেন ব্যবসায়ীরা কোনো পণ্যের অতিরিক্ত দাম নিতে না পারেন, সে লক্ষ্যে মোবাইল টিম কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। নগরের বড় বাজার ছাড়াও প্রত্যেক উপজেলায় মোবাইল টিম কাজ শুরু করেছে। খাদ্যে ভেজালসহ সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে কেউ অতিরিক্ত মুনাফা লুটতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’