ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন ও রিফাত। একজন পালিয়ে আসতে পারলেও নুরুল্লাহ শাওন (২৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রায় ২৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শাওনের সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ নুরুল্লাহ শাওন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার শাহজাহান মিয়ার ছেলে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরীর জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালার বিপরীত দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের একাধিক টিম এবং তার বন্ধুরা ব্রহ্মপুত্র নদের চরে খোঁজ চালিয়েও শাওনের সন্ধান পাননি।
নিখোঁজ শাওনের ছোট বোনের জামাতা আবুল কাশেম বলেন, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাওন ও রিফাত নগরীর জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালার বিপরীত দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অন্ধকার নেমে এলে ৭ জন ছিনতাইকারী তাদের আটকে টাকা দাবি করে। কিন্তু নৌকা ভাড়া ছাড়া তাদের কাছে কোনো টাকা ছিল না।
রিফাত ও শাওনের কাছে টাকা না থাকায় ছিনতাইকারী দলের একজন ক্ষিপ্ত হয়ে রিফাতের গালে থাপ্পড় মেরে মোবাইল বের করে দিতে বলেন। রিফাতের গালে থাপ্পড় মারার প্রতিবাদ করেন শাওন। প্রতিবাদ করায় পাশে থাকা গাছের ডাল দিয়ে ছিনতাইকারীরা রিফাত ও শাওনকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে রিফাত ও শাওন দুই দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় রিফাতকে চারজন এবং শাওনকে তিনজন ছিনতাইকারী ধাওয়া করে। রিফাত সাঁতার জানায় নদের দিকে দৌড়ে গিয়ে দুইজন বালু শ্রমিকের কাছে পৌঁছান। বালু শ্রমিকরা বিষয়টি বুঝতে পেরে এক ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে একজনকে আটক করে এবং রিফাতকে উদ্ধার করে। শাওন নদে নেমেছেন নাকি অন্য কোনো দিকে দৌড়ে গেছেন, তা জানা যায়নি।
পরে খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একাধিক টিম ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং নদের চরে খোঁজ চালায়। কিন্তু রাতে শাওনের সন্ধান না পাওয়ায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। শুক্রবার সকালে পুলিশের একাধিক টিম ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আবারও শাওনের সন্ধানে নামে। তবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শাওনের কোনো সন্ধান মেলেনি।
এদিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের দাবিতে শুক্রবার দুপুরে আনন্দ মোহন কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও শাওনের পরিবারের সদস্যরা। মানববন্ধনে নিখোঁজ শাওনের মা শাহিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং যেকোনো মূল্যে তার ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল খান বলেন, আমরা দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় শাওনকে ফেরত চাই। একই সঙ্গে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের টিম লিডার তরুণ-উর-রশিদ বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল ও চরের আশপাশ এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু নিখোঁজ শাওনের সন্ধান মেলেনি। শাওন নদে ঝাঁপ দিয়েছেন নাকি অন্য দিকে দৌড়ে গেছেন, তা নিশ্চিত নয়। তাই আজকের মতো উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নাজমুল সাকিব জানান, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে গতকাল থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক ছিনতাইকারীর নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।


