ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বাবুল মিয়া (২৪) নামে আরও এক আসামিকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার রাত ১১টার দিকে ভালুকা থানার ডুবালিয়াপাড়া এলাকা থেকে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া (২৪) ভালুকা উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কারখানার গেটে লোক জড়ো করার মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি প্রথমে কারখানার গেটে লোক সমবেত করে স্লোগানের মাধ্যমে জনতাকে উত্তেজিত ও একত্রিত করেন। পরে দীপু চন্দ্র দাসকে গেটের সামনে মারধর করে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ মহাসড়কে নিয়ে উত্তেজিত জনতার মাধ্যমে নির্যাতনে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।’
ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে কারখানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তার ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
নিহত দীপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি দুই বছর ধরে ভালুকার জামিরদিয়া পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।



