ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বালু ঘাট নিয়ে ছাত্রদল-এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, এক ডজন মোটরসাইকেল পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (বিআইডব্লিউ) কর্তৃপক্ষের বালু ঘাট নিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ছাত্রদল ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মোটরসাইকেল বহরের অন্তত ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সরকারি কলেজ ঘাট বালু মহাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, গত বুধবার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেন তার দলবল নিয়ে সরকারি কলেজ এলাকায় বালুর ঘাট দখল করতে যান। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে তিনি দলবল নিয়ে ফিরে যান। পরদিন বৃহস্পতিবার মুক্তার হোসেন বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে আবারও ঘাট দখল করতে আসেন। এ সময় তিনি এক নৌকার মাঝিকে পিটিয়ে আহত করেন এবং নৌকায় আগুন দেন। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তার ও তার লোকজনের অন্তত ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। তবে এ ঘটনায় মাঝি ছাড়া অন্য কেউ আহত হয়নি।

এ বিষয়ে জেলা যুবদল নেতা আবদুল আজিজ সাদেক বলেন, বালু ঘাট নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কার সঙ্গে এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে তা তিনি স্বীকার করেননি।

এ বিষয়ে জানতে গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেনের নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে কে বা কারা বালু ঘাট দখল করতে এসেছিল তা এখনো জানা যায়নি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনএম আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘সরকারি কলেজ বালু ঘাটটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (বিআইডব্লিউ) কর্তৃপক্ষের অধীনে। গতকাল সেখানে কী ঘটেছে, তা আমাকে কেউ জানায়নি। আজ দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে কে বা কারা ঘাট দখল করতে গিয়েছিল, তা আমার জানা নেই।’