হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাইন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৭ মার্চ থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৬৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৪ মার্চ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়।
পরে শিশু ওয়ার্ডের তিনটি পৃথক কক্ষে “হাম/মিসেলস কর্নার” নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হয়। এছাড়া সোমবার সকালে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
হাম ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের ৮ তলায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে।
সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ, নার্স স্টেশন এবং চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব শিশুর অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে, তারা পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো রোগীর আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হয়নি।
সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাইন উদ্দিন বলেন, “সারাদেশের মতো ময়মনসিংহ বিভাগেও হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় শিশু ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তাই নতুন ভবনের ৮ তলার পশ্চিম পাশে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।”
ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহমেদ বলেন, হামে আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্টকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তারা সার্বক্ষণিকভাবে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবেন। তবে আজ সকাল পর্যন্ত কোনো উপজেলায় নতুন রোগী ভর্তি হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন