ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জায়গায় আইসিটি ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমানের নির্দেশে পুলিশে দেওয়া দুই নারী জামিন পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাদের পরে ময়মনসিংহের ৪নং আমলী আদালতে তোলা হলে আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ওই দুই নারীর জামিন মঞ্জুর করেন।
জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জায়গায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইউএনও সানজিদা রহমানের উপস্থিতিতে দুই নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী কৌশিক রঞ্জন সরকারের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, আব্দুল্লাহ আল নোমানের স্ত্রী সুমা আক্তার (২৬) ও মকবুল হাসানের স্ত্রী ফাতেমা তুজ জহুরা (৪০)।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউআইটিআরসিই-২ প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ১০ শতাংশ জমি আইসিটি ভবন নির্মাণের জন্য নির্বাচিত করে প্রস্তাবনা পাঠান তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে অনুমোদিত সারা দেশের ১৬৩টি আইসিটি ভবনের মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাতে একটি আইসিটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। বিপত্তি শুরু হয় আইসিটি ভবনের নির্মাণকাজ শুরুর সময়, ২০২৩ সালে। তখন স্থানীয় মকবুল হোসেন গং প্রস্তাবিত জায়গার সাড়ে ৪ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে বাধা দেন।
জায়গার মালিক দাবি করে আসা পরিবারের সদস্য মাসুদ আল নোমান জানান, প্রস্তাবিত আইসিটি ভবনের সাড়ে ৪ শতাংশ জায়গার রেকর্ডমূলে পৈতৃক সূত্রে মালিক তারা। সেখানে তাদের পারিবারিক কবরস্থান, যা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান।
নোমান বলেন, ‘জনস্বার্থে আইসিটি ভবনের কাজ হোক তা আমরাও চাই, কিন্তু বিষয়টি কোনো সুরাহা না করে জোরপূর্বক আমাদের কবরস্থান ভেঙে, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশ দিয়ে দুই মহিলাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর মিথ্যা মামলায় তাদের আদালতে পাঠায়।’
ভবনটির নির্মাণ করার দায়িত্ব পায় কোরিয়ান হোবান ইএনসি কোম্পানি। আর কাজটি তদারিক করছেন ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক রঞ্জন সরকার।
তিনি বলেন, ‘আইসিটি ভবন নির্মাণের জন্য ইউএনও অফিস থেকে আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মকবুল হোসেনসহ কয়েকজন বাসিন্দা নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ায় এখানে কাজ করা যাচ্ছে না। কাজ করতে গেলে মারধরসহ বাধা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি আমাদের কোম্পানি, উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশকে জানালে থানায় একটি মামলা করা হয়। পরে কাজে বাধা দিলে দুই নারীকে ইউএনওর নির্দেশে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যায়।’
এ প্রসঙ্গে জানতে ইউএনও সানজিদা রহমানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস খবরের কাগজকে বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের এক একর ৭৪ শতাংশ জায়গার অধীনেই আইসিটি ভবনের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। প্রস্তুাবিত ভবনের কাজে বাঁধা দেওয়ার এখতিয়ার কারেও নেই। কেননা, বিআরএস রেকর্ডমূলে উপজেলা পরিষদের জায়গাতেই আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বারবার সতর্ক করার পরেও স্থানীয় একটি মহল বেআইনিভাবে আইসিটি ভবনের কাজে বাধা দিয়ে আসছিল।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আযম জানান, গত বৃহস্পতিবার আইসিটি ভবন নির্মাণের সাইট ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক রঞ্জন সরকার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।


