ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে কাঁদলেন ছাত্রদল কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
আহসান উল্লাহ নয়ন। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন আহসান উল্লাহ নয়ন নামে এক কর্মী। ২০২৩ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পরও পুলিশ ভেরিফিকেশনে ছাত্রদলের বিভিন্ন পোস্টার দেখানোয় তিনি চাকরি হারান বলে দাবি করেছেন।

শনিবার (২ মে) রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশের পর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে অঝোরে কাঁদেন আহসান উল্লাহ নয়ন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আহসান উল্লাহ নয়ন ভাবখালী ইউনিয়নের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা নিরাশ ছিলাম, এখনো নিরাশই রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক এনে কমিটিতে বসানো হয়েছে। আমরা এতদিন আন্দোলন-সংগ্রাম, হরতাল করে কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা যেটা করেছেন, এটা ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে অসংখ্য ছবি থাকার পরও তাদের কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। আর আমরা জীবন-যৌবন সবকিছু এই ছাত্রদলের জন্য ব্যয় করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল করার কারণে নৌবাহিনীর চাকরি থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি তকমা দেওয়া হয়েছে। আমরা সবকিছু ছেড়ে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন করেছি, কিন্তু কমিটিতে আমাদের রাখা হয়নি। শিক্ষা জীবনসহ সবকিছু দিয়েও যদি দলীয় পরিচয় না পাই, তাহলে বেঁচে থাকার অধিকারই বা কোথায়?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, ‘২০২৩ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি নিশ্চিত হয়েছিল। আমরা দুজন টিকেছিলাম। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশনে এলাকায় আমার ছাত্রদলের পোস্টার দেখানো হলে ১৩ দিনের মাথায় আমাকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়।’

এ বিষয়ে নবনিযুক্ত ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজের নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুকন বলেন, ‘আহসান উল্লাহ নয়ন ছাত্রদলের একজন ত্যাগী কর্মী। ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হলে এটি আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হতো।’

শনিবার (২ মে) রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ৩১১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি এবং মো. রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।