১৯৭৯ সালে বাবার খনন করা দরিরামপুর ধরার খাল ৪৭ বছর পর পুনঃখননের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে মাটি কেটে শ্রমিকদের মাথায় তুলে দেন।
শনিবার (২৩ মে) বেলা ২টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের দরিয়ারপুর গ্রামের ধরার খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে ১১টা ৫ মিনিটে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি ময়মনসিংহের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী জাতীয় নজরুল জন্মজয়ন্তী উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩, ২৪ ও ২৫ মে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জানা গেছে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১৯৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত পরিদর্শনে আসেন এবং স্থানীয় ‘ধরার খাল’ বা বৈলর খাল পরিমাপ ও খনন কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হন। তবে ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৭ সালের দিকে তিনি দেশব্যাপী যে ব্যাপকভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, তার অংশ হিসেবে ত্রিশালের এই খালটিও খনন করা হয়েছিল।
খাল খননের স্মৃতিচারণ করে বইলর ইউনিয়নের কানহর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ জালাল ইসলাম বলেন, ‘আমি তহন চেংড়া বয়স। তহন দেখছি একটা প্যান্ট ও গুঞ্জি গাও দিয়ে, চোখে চশমা পইড়া জিয়াউর রহমান আমাগর এই এলাকায় আইছিলেন। তিনি নিজে কোদাল দিয়া মাটি কাইটা এই খাল খননের কাজ উদ্বোধন করছিলেন। তিনি তহন ওই যে মাদ্রাসাটার সামনে অনেকক্ষণ বইসা আছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এহন ছেলে প্রধানমন্ত্রী হইয়া আবারও আমগোর এলাকায় আইতাছে। এই এলাকার মানুষ কফাইল্যা এখানে প্রেসিডেন্ট আইছে এহন প্রধানমন্ত্রীও আইব।’
কানহর মোড় মসজিদের সাবেক ইমাম মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘বাবা প্রেসিডেন্ট হয়ে এখানে এসেছিলেন, এখন ছেলে প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসছেন। আমরা খুবই খুশি এবং আনন্দিত। আমরা এই এলাকার মানুষ অবহেলিত। প্রধানমন্ত্রীর বাবা এই খালের পাশ দিয়ে যে সড়কটি দিয়ে হেঁটে গিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত এই রাস্তার কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা চাই, এই রাস্তাটি পাকা করার ঘোষণা দিবেন। আমাদের এই এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক নেই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কমিউনিটি ক্লিনিক চাই।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, আজ ২৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এসে আবারও এই খালটির পুনঃখনন উদ্বোধন করবেন। বাবার কেটে যাওয়া খাল ছেলের পুনরায় উদ্বোধন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বলে জানান তিনি।

বেলা ২টায় ত্রিশালের নজরুল ডাকবাংলোতে বিরতি শেষে বেলা ৩টায় জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর বিকেলে ত্রিশালের নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে ত্রিশালবাসীর মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ এবং আকাশচুম্বী প্রত্যাশা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাদা পোশাকের পাশাপাশি ইউনিফর্ম পরে পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার করা হয়েছে সাদা পোশাকের পাশাপাশি ইউনিফর্মে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন