ময়মনসিংহ সদরে নিখোঁজের দুই দিন পর একটি পুকুর থেকে বিজয় বর্মণ (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে দাবি পরিবারের।
রোববার (২৪ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত বিজন বর্মন ওই এলাকা মাছ ব্যবসায়ী হরিপদ বর্মনের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের সংসারে তিনি ছোট ছেলে। তার এক বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অপর ভাই ধীরেন্দ্র বর্মন ওষুধ ব্যবসায়ী।
নিহত বিজন বর্মণের চাচাতো ভাই সুব্রত বর্মণ জানান, শুক্রবার রাতে মুক্তাগাছা থেকে ফিরে মাদকাসক্ত বন্ধুদের সঙ্গে ময়মনসিংহ শহরে যায়। সেখান থেকে মাদকাসক্ত অবস্থায় বাড়িতে আসে। এরপর রাত ১২টার দিকে আবার এলাকার বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে একটি জঙ্গলে আড্ডা দেয় বলে স্থানীয় লোকজন দেখতে পায়। এরপর আর বাড়ি ফিরেনি।
গতকাল শনিবারও দিনভর খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর আজ রোববার সকালে বাড়ি থেকে একটু দূরে পুকুরের কচুরিপানায় মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিবারের লোকজন বিজয়ের মরদেহ শনাক্ত করে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, নিহত বিজয় বর্মণ মাদকাসক্ত ছিল। গত শুক্রবার মাদকাসক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পথে একটি দোকানের সামনে পড়ে যায়। পরে ওই দোকানি বাড়ির লোকজনকে খবর দিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, বিজয় বর্মণ আবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাড়ির পাশে জঙ্গলে চলে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে জঙ্গলে যায়। তবে, বিজয় বর্মণকে জঙ্গলে খুঁজে পায়নি। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে আজ বাড়ির পাশে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে, নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

