ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নে মোবাইল চুরির সন্দেহে এক তরুণকে সালিশে মারধরের ঘটনায় নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে নবী হোসেন (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত নবী হোসেন উপজেলার হাটপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিম মৃধার ছেলে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত ৯টার দিকে হাটপাড়া বাজারে বিএনপি নেতা শামসুল আলম ফারুকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে একই এলাকার দুলালের ছেলে রবিনের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় শারফুল আলমের ছেলে রানা মিয়াকে সন্দেহ করা হয়। ঘটনার দিন বিএনপি নেতা শামসুল আলম ফারুকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কামাল, ইমন, সোহেল, নয়ন, রাকিব ও আরিফ রানাকে তুলে এনে হাটপাড়া বাজারে ফারুকের কার্যালয়ের সামনে বেঁধে সালিশ বসায়।
একপর্যায়ে রানাকে মারধর শুরু হলে তার দাদা নবী হোসেন ঘটনাস্থলে এসে বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় নবী হোসেন সড়কে পড়ে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে পাগলা থানা বিএনপির সদস্য শামসুল আলম ফারুক বলেন, ঘটনাটি তার কার্যালয়ের সামনে ঘটলেও তিনি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে গিয়ে রানাকে উদ্ধার করেন। তিনি দাবি করেন, নাতিকে বাঁচাতে গেলে নবী হোসেন মারধরের শিকার হন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শামসুল আলম ফারুককে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজির অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
দক্ষিণ পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মোবাইল চুরির সন্দেহে এক তরুণকে মারধরের সময় বাধা দিতে গিয়ে নবী হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

