ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হাদির হামলাকারীরা সীমান্ত পার হয়েছে কিনা, নিশ্চিত নয় বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ০১:৩৮ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী সন্দেহভাজন ফয়সাল ও তার সহযোগী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে গেছে কিনা, সে বিষয়ে এখনো শতভাগ নিশ্চিত নয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে সীমান্তে তাদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ফিলিপ সান্যাল নামের এক সন্দেহভাজন মানব পাচারকারীকে খুঁজছে যৌথ বাহিনী।

আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকায় হামলার ঘটনার পরপরই রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সীমান্ত এলাকার সব স্পর্শকাতর পয়েন্ট, প্রবেশ ও বহির্গমন পথে বিজিবির টিম বসানো হয়। ময়মনসিংহ ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলো থেকে বর্ডারের দিকে যাওয়ার রাস্তায় একাধিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, শুক্রবার সারারাত আমরা বর্ডার পাহারা দিয়ে রেখেছি। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিওপিগুলো থেকে অতিরিক্ত টহল দল বের করে সীমান্তের গ্যাপগুলো পূরণ করা হয়েছে। শনিবারও সারাদিন এই কার্যক্রম চলেছে এবং ময়মনসিংহ থেকে বাড়তি জনবল এনে নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে।

হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা কেউ শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে আক্রমণকারী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়েছে, নাকি পালায়নি। পুলিশও নিশ্চিত নয়, আমরাও নই। আমরা দুটি সম্ভাবনা মাথায় রেখেই কাজ করছি। যদি পালিয়ে থাকে, তবে কে সাহায্য করল? আর না পালালে কোথায় আছে বা কার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

ফিলিপকে ধরার জন্য সর্বাত্মক শক্তি আমরা নিয়োগ করেছি। গোয়েন্দা তৎপরতাও আমরা চালাচ্ছি। কারণ ফিলিপকে ধরা গেলে অনেক কিছুর তথ্য আমরা হয়তোবা বের করতে পারব, যদি পাচার হয়ে থাকে। আর যদি না হয়ে থাকে, তাহলে ফিলিপের নামটা কেন বারবার আসছে সেটিও আমাদের জন্য জানাটা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযানে ফিলিপ সান্যালের স্ত্রী ডেলটা চিরান, শ্বশুর ইয়ারসন রংডি এবং মানবপাচারকারী লুইস লেংমিঞ্জাকে আটক করা হয়। পরে তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া বারোমারি এলাকা থেকে বেঞ্জামিন চিরাম নামে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।