ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৪:৫৪ পিএম
জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগকৃত জমি। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদালতের রায় ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জামায়াত নেতা কফিল আহাম্মদের (৫৫) বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে মিজমিজি পূর্বপাড়া পাগলাবাড়ী এলাকার মৃত আ. মান্নান উদয়ের মেয়ে নাসিমা আহাম্মদ (৫৭) বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। জানা গেছে, বাদী ও বিবাদী সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি।

অভিযুক্তরা হলেন, মিজমিজি পূর্বপাড়া পাগলাবাড়ী এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা কফিল আহাম্মদ, তার ছেলে মো. সিফাত (৩০) ও আশফাক আহাম্মদ (৩২), স্ত্রী ফাতেমা (৪৫)-সহ আরও অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন।

অভিযোগ পেয়ে একই দিন বেলা ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সামসুদ্দোহা সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে নালিশি জমিতে জামায়াত নেতা কফিল আহাম্মদের নেতৃত্বে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

অভিযোগে ভুক্তভোগী নাসিমা আহাম্মদ উল্লেখ করেন, সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজাস্থ আর. এস. ১৫৩৪, নামজারি ৪৩৭১ নং খতিয়ানভুক্ত আর. এস. ৪৬৫৮ দাগের নাল ১২ শতাংশের মধ্যে ৩ শতাংশ জমি তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। উক্ত জমিটি অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করে আসছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত জামায়াতের কর্মী-সমর্থক হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। রোববার সকাল ৯টার দিকে অভিযুক্তরা তার দখলীয় জমিতে উপস্থিত হয়ে তাকে, তার মা, ছোট ভাই ও বোনদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন এবং সন্ত্রাসীদের নিয়ে সেখানে বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এ সময় তিনি বাধা দিলে অভিযুক্ত কফিল আহাম্মদ তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ ২য় আদালত থেকে ২০২৩ সালের ১৫ মে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-১৪৬/২০২০ অনুযায়ী রায় এবং একই বছরের ২৩ মে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি প্রদান করা হয়, যা বর্তমানে বহাল রয়েছে।

অভিযোগকারী নাসিমা আহাম্মদ বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অভিযুক্ত কফিল আহাম্মদের ছেলেরা সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার ইসলামের প্রভাব খাটিয়ে তাদের ওপর জোর-জুলুম চালিয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আবারও জামায়াতের প্রভাব দেখিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে।’

এ বিষয়ে জামায়াত নেতা কফিল আহাম্মদ বলেন, ‘এই জায়গাটি আমার আপন ভাইয়ের। আমি ক্রয়সূত্রে এই জমির মালিক। যারা মালিকানা দাবি করছেন, তারা প্রকৃত মালিক নন।’

এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সামসুদ্দোহা জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা হবে। 

তিনি আরও জানান, আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।