ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ৫ আসনে ৪০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ, বাতিল ১৬

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে দাখিল করা ৫৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৪০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাতিল করা হয়েছে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তাদের প্রস্তাবকারী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির।

এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার পাশাপাশি আটজন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ, আয়কর বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ-১

রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইমদাদুল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আ. কাইয়ুম শিকদার এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল।

হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান চন্দনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলালের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-২

আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, সিপিবির মো. হাফিজুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াস মোল্লা, গণঅধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালামও বৈধ হন।

প্রাথমিকভাবে আয়কর বকেয়া থাকায় আঙ্গুর, হাফিজুল ইসলাম ও ইলিয়াস মোল্লার মনোনয়নপত্র সাময়িক স্থগিত রাখা হলেও বিকেলে সেগুলো বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এ আসনে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আবু হানিফ হৃদয়, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল আউয়াল ও মিনহাজুর রহমান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আবু হানিফ হৃদয় ঋণখেলাপি এবং মাওলানা হাবিবুল্লাহ প্রস্তাবকারী-সমর্থক ও হলফনামায় সম্পদের তথ্য অসম্পূর্ণ দিয়েছেন। অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়া গেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩

সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নিয়ে গঠিত এ আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন। তারা হলেন- বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মসীহ, জনতার দলের আবদুল করিম মুন্সী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. শাহজাহান, আমার বাংলাদেশ পার্টির আরিফুল ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ায় বাদ পড়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪

সদর উপজেলা (ফতুল্লা ও সদর) এলাকার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ১৫ জন মনোনয়ন জমা দেন। এর মধ্যে নয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনির হোসাইন কাসেমী, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান।

মোহাম্মদ আলীর মালিকানাধীন একটি শিল্প কারখানার গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় তাঁর মনোনয়নপত্র সাময়িক স্থগিত থাকলেও বিকেলে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য থাকায় সিপিবির ইকবাল হোসেন ও গণঅধিকার পরিষদের আরিফ ভূঁইয়া, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সেলিম আহমেদ, গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় জাতীয় পার্টির সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাতেমা মনিরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ-৫

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭টি ওয়ার্ড ও বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাছুম বিল্লাহ, খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা এবং সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ।

এ আসনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, ব্যবসায়ী আবু জাফর আহমেদ বাবুল, গণঅধিকার পরিষদের নাহিদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু জাফর আহমেদ বাবুল নিজেদের বিএনপির প্রার্থী উল্লেখ করলেও দলের মনোনয়নপত্র সংযুক্ত না করায় তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়। হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ায় নাহিদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এছাড়া, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের মনোনয়নপত্রও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।