নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। হামলায় আমিনুল ও তার পরিবারের নারীসদস্যসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের মুলখারটেক গণকবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- সাদিপুর ইউনিয়ন যুবদলের কার্যকরী সদস্য আমিনুল ইসলাম (৩৩), তার বোন রিতু মনি (২২) ও ভগ্নিপতি মাছুম (৫০)। তাদের মধ্যে আমিনুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর দুজন সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় আহত রিতু মনি বাদী হয়ে বুধবার রাতে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে রাজিম হোসেন (৩০), নুরা হোসেন (২৫) এবং মনির হোসেনের ছেলে নেহালের (২২) সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে তাদের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বুধবার বিকেলে আমিনুল একা থাকাকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় নুরা হোসেন ধারালো কুড়াল দিয়ে আমিনুলের পিঠ ও বাম পায়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আমিনুলের চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন তার বোন রিতু মনি ও ভগ্নিপতি মাছুম। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাদের ওপরও আক্রমণ চালায়। নেহাল ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিতু মনির মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। এতে তার ডান হাতের দুটি আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এদিকে রাজিম হোসেন ছুরি দিয়ে মাছুমের পিঠ ও কোমরের নিচে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার পর অভিযুক্তরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বসতঘরের টিনের বেড়া, গেট, পানির পাম্পের পাইপ ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ভবিষ্যতে আরও খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমিনুলের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

