ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৪ সন্তানের জননীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ১০:০২ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নরসিংদীর মাধবদীতে ফোনে পরিচয়ের সূত্রে দেখা করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী ৪ সন্তানের জননী। 

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দার একটি মাছের খামারের পুকুর পাড়ে  এঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে বিকালে ঘটনায় জড়িত রিদয় মিয়া (৩২) নামে একজন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার গোপালদী গ্রামের বাসিন্ধা। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী তার মেয়েকে নিয়ে আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকার মার্কেটে ঈদের শপিং করতে যান। মেয়েকে ঈদের জামা কিনে ইফতারের পূর্বেই বাসায় পাঠিয়ে দেয়। গত ৩ থেকে ৪ দিন পূর্বে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের রিদয় মিয়ার সাথে ভুক্তভোগী নারীর মোবাইল নাম্বারে কথাবার্তা চলছিল। ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছে রিদয় জানতে পেরে দেখা করতে চায়। 

পরে ভুক্তভোগী নারী একাই অটোরিকশা যোগে রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যায়। সেখানে চৌ-রাস্তায় রিদয়ের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হলে রিদয় ভুক্তভোগী নারীকে রাস্তা থেকে পুকুর পাড়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আরও অজ্ঞাতনামা ৩ জন ছেলে ভুক্তভোগী নারীকে পুকুর পাড়ে ফেলে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে। 

পরে ভুক্তভোগী নারীর মোবাইল ও টাকা কেড়ে নিয়ে আসামিরা তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে। পরে ওই নারী তাৎক্ষণিক দৌড়ে পাশেই থাকা একটি পাওয়ারলুম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং তাদেরকে ঘটনার বিষয়টি জানায়। পরে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর আসামির মোবাইল নম্বর ট্যাক করে ধর্ষক রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ।

মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সিমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে। প্রথমে ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার থানাকে জানায়। তারা ঘটনাস্থলে এসে নরসিংদীর মধ্যে ঘটনা হওয়ায় আমাদের জানালে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কারো নাম বলতে পারেনি ও শুধু মোবাইলের নাম্বারের সূত্র ধরে অভিযুক্ত রিদয়কে আমরা গ্রেপ্তার করি। সে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাকী আসামিদের পরিচয়ও শনাক্ত করেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে।