মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। তবে বর্তমানে এর সার্বিক চিত্র স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে। সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের পাশাপাশি এখন যুক্ত হয়েছে সরকারি সম্পদের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনার সুস্পষ্ট চিত্র।
অব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স পড়ে থাকতে দেখা যায়। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য যেখানে অ্যাম্বুলেন্সের সংকট রয়েছে, সেখানে সরকারি যানবাহনগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। একইভাবে হাসপাতালের কিছু ভবন দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। এসব সরকারি সম্পদ দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনঃব্যবহারযোগ্য করে তোলা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম ও বৈষম্য
বহির্বিভাগে নির্ধারিত টিকিট মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সেবা গ্রহণকারীদের মতে, ৩ টাকা মূল্যের টিকিটের পরিবর্তে বাস্তবে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
ওষুধ বিতরণেও রয়েছে বৈষম্যের অভিযোগ। পরিচিত বা প্রভাবশালী রোগীরা সিরিয়াল ছাড়াই অতিরিক্ত ওষুধ পেয়ে থাকেন, যেখানে সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় শুধু ফলিক অ্যাসিডের একটি পাতা দেওয়া হয়—যা মাসব্যাপী নির্ধারিত ক্যালসিয়াম ও আয়রন সাপ্লিমেন্টের তুলনায় অপ্রতুল।
প্রাইভেট ক্লিনিককেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ
আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো সরকারি চিকিৎসক ও আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র। অভিযোগ রয়েছে, কিছু দালাল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রোগীদের নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে প্ররোচিত করেন।
সম্প্রতি এক গর্ভবতী রোগী নিজ উদ্যোগে বাইরে থেকে আল্ট্রাসনোগ্রামসহ পরীক্ষা করিয়ে আনলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক রিপোর্ট না দেখেই তাকে তিরস্কার করেন এবং ‘বাইরে পরীক্ষা’ করানোর বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতালের সেবার চেয়ে বাণিজ্যিক প্রভাব বেশি কার্যকর হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আল্ট্রাসনোগ্রাফি কক্ষ থাকা সত্ত্বেও সেটি নিয়মিত সচল থাকে না বলেও জানা গেছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ ও প্রত্যাশা
উল্লেখ্য, মনোহরদী উপজেলা দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজ নির্বাচনি এলাকা। তাই এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবি জানানো হয়েছে— ১. অব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স মেরামত করে দ্রুত সেবায় যুক্ত করা এবং পরিত্যক্ত ভবন সংস্কার করা। ২. টিকিট ফি ও ওষুধ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি চালু করা। ৩. সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট ক্লিনিক সংশ্লিষ্টতা ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
মনোহরদীবাসীর প্রত্যাশা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রকৃত অর্থেই একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন