× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

অভিযুক্ত উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

অভিযুক্ত উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক প্রান্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রাপ্য মজুরি জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং অফিসের ওয়াইফাই বিলের অর্থ উত্তোলনে অসংগতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে।

সরকারি অফিসিয়াল ভাউচার যাচাই ও ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিল প্রস্তুতের সময় এ ধরনের অমিল দেখা যেতে পারে এবং অনেক অফিসে বিল-ভাউচারের কাজ এভাবেই করা হয়।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস আদেশে মাসিক দুই হাজার টাকা পারিশ্রমিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন খদেজা বেগম (৫৫)। তবে কাগজে মাসিক দুই হাজার টাকা উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তবে তাকে দেওয়া হতো মাত্র ৫০০ টাকা।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের মতে, একজন নিরুপায় ও শ্রমনির্ভর প্রান্তিক নারীর প্রাপ্য অর্থ আত্মসাৎ কেবল আর্থিক অনিয়ম নয়, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবিকতার চরম অবমাননা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জাল স্বাক্ষর ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে একইভাবে অফিসের ওয়াইফাই বিলেও অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। মাসিক ৬০০ টাকায় চুক্তি থাকলেও বিল ও ভাউচারে উত্তোলন দেখানো হয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা।

উপজেলা প্রতিনিধির সংগ্রহ করা অফিসিয়াল ভাউচার, হিসাবপত্র এবং স্বাক্ষরের অমিল থেকে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। নথিতে থাকা স্বাক্ষর নিজের নয় বলে দাবি করেছেন খদেজা বেগম। তিনি জানান, কখনোই মাসিক দুই হাজার টাকা পাননি।

খদেজা বেগম বাগাতিপাড়া পৌরসভার নড়ইগাছা এলাকার বাসিন্দা। ৩০ বছর ধরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন দপ্তর ও ডরমিটরি ভবনে পরিচ্ছন্নতা ও রান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন দাপ্তরিক আদেশে কাজ করলেও তিনি কখনো লিখিত নিয়োগপত্র বা স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা পাননি। মৌখিক চুক্তির সুযোগ নিয়ে তার প্রাপ্য অর্থ কাগজে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রতিনিধির অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হওয়ার পর তাকে কোনো লিখিত কারণ ছাড়াই ৫০০ টাকা হাতে দিয়ে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যদের নাশতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

খদেজা বেগম বলেন, তিনি বহু বছর ধরে অফিসে কাজ করেছেন এবং প্রতি মাসে ৫০০ টাকা পেতেন। তার নামে বেশি টাকা উত্তোলন করা হতো বলে তিনি আন্দাজ করলেও কখনো প্রতিবাদ করেননি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর হঠাৎ একদিন তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে জানানো হয়, আর কাজ করতে হবে না। তিনি দাবি করেন, তাকে দেওয়া অর্থের বিপরীতে কখনো কোনো কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমান বলেন, বিষয়টি হৃদয়বিদারক। সরকারি নথি ও স্বাক্ষরের সঙ্গে বাস্তব প্রাপ্তির অমিল স্পষ্টভাবে দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, তিনি খদেজা বেগমকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে দিতেন এবং তিনি বাড়িতে অবস্থানরত একজন সাধারণ পরিচ্ছন্নকর্মীর মতোই কাজ করতেন। অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিল তৈরির সময় ভ্যাট ও আয়কর দিতে হয়, তাই বেশি অঙ্কের বিল দেখিয়ে ভাউচার করা হয়। তবে ভাউচারে জাল স্বাক্ষর ও অতিরিক্ত ওয়াইফাই বিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।

জেলা মহিলাবিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নীলা হাফিয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। সব অফিসে বিল-ভাউচার এভাবে করা হয়—এমন দাবি সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!