নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় এস এম জাহিদুল ইসলাম নামে এক আইনজীবীর খরিদ করা জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই এলাকার জালাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি আইনজীবী জাহিদুল ইসলামের ঘরে তালা মেরে ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহিদুল নলডাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারকে অভিযোগ করার পর পুলিশ সুপার মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশনা মানছে না নলডাঙ্গা থানার ওসি। থানা পুলিশের এমন আচরণে ভুক্তভোগী জাহিদুল ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম জানান, নলডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মঞ্চিল গাছা ১৭/১ হোলিংয়ে ১ দশমিক ৪ শতাংশ জমিতে তার একটি বসত ঘর রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবরে জমিটি ক্রয় করে ভোগ দখল করে আসছেন তিনি। ওই জমির বিপরীতে তার খাজনা পরিশোধের পাশাপাশি সব ধরনের বৈধ দলিল রয়েছে। একই উপজেলার মধ্য পাড়া এলাকার মো. জালাল নামের এক ব্যক্তি গত ৭ ফেব্রুয়ারি তার ঘরে জোরপূর্বক তালা লাগিয়ে দেয়। ওই জমি নিজেদের মালিকানা দাবি করে স্থানীয় জালাল নামের ব্যক্তি ঘরটি দল করার চেষ্টা করে। কিন্তু জমির মালিকানা দাবি করলেও তার কাছে বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই।
জানতে চাইলে আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালে তিনি জমিটি ক্রয় করে একটি টিনের ঘর তৈরি করেছেন। ওই ঘরে তিনি থাকেন। ওই ঠিকানায় তিনি নলডাঙ্গা পৌরসভার ভোটারও হয়েছেন। বিবাধী জালাল উদ্দিনের সঙ্গে তার পূর্ব থেকে কোনো মামলা বা বিরোধও নেই। জালাল উদ্দিন হঠাৎ এসে তার বসত করা ঘরের জায়গা নিজের বলে দাবি করে। এরপরই তিনি ঘরটি তালা মেরে দখলের চেষ্টা করেন, যা ফৌজদারী অপরাধ। ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়েরের জন্য যান। পুলিশ মামলা না নিয়ে লিখিত অভিযোগ নেয়। অভিযোগ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েও রহস্যজনক কারণে মামলা নিচ্ছে না থানার ওসি। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তিনি অভিযোগ করেছেন। জেলা এসপি ঘটনার সত্যতা থাকায় ওসিকে মামলা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্ত সেই নির্দেশনাও মানছে না ওসি।
ভুক্তভোগী জাহিদ বলেন, আমি নিভেজাল জমি ক্রয় করেছি। জমির কাজগপত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি নেই। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট জালাল উদ্দিনের সাথে থানার ওসির ব্যক্তিগত কোনো যোগাযোগ থাকতে পারে। ফৌজদারী অপরাধ সংঘটিত হওয়া সত্ত্বেও মামলা না নেওয়াটা রহস্যজনক।
জানতে চাওয়া হলে নলডঙ্গা থানার ওসি নুর ই আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অভিযোগকারী আইনজীবী জাহিদুল যে পক্ষের কাছ থেকে জায়গটি কিনেছেন তাদের সাথে জালালউদ্দিনের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধে আদালতে মামলাও ছিল। কিন্ত মামলা চলাকালীন জাহিদুল ইসলাম জায়গটি কিনে দলিল করেছেন। পরে জায়গাটির মালিক হিসেবে জালালউদ্দিন রায় পেয়েছেন। এখন আমরা অভিযোগ তদন্ত করেছি। তাদের বলেছি যেহেতু এটি জমিসংক্রান্ত বিরোধ তারা আদালতে মামলা করুন। আদালয় রায় দিবে জমিটির প্রকৃত মালিক কে। এখানে মামলা নেওয়ার মতো কোনো অপরাধ ঘটেনি। যদি মারামারি বা পাণহানী ঘটনার মতো কোনো শঙ্কা থাকত বা ঘটত তাহলে পুলিশ মামলা নিত।
অভিযোগকারী জাহিদুল ইসলাম তালা মারলে সেই তালা ভেঙে জালালউদ্দিন তালা মারা। আবার জালাল উদ্দিনের তালা ভেঙে জাহিদুল ইসলাম তারা মারে। এভাবে চলছে ঝামেলাটি। আমরা তাদের দুই পক্ষকে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার জন্য বলেছি। এখানে জাহিদুল ইসলামের দলিল থাকলেও জালাল উদ্দিনের মামলার মালিকারার রায় আছে। ফলে বিষয়টি পুলিশের পক্ষে সমাধানযোগ্য নয়।

