নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর দিয়ে ফসলি জমি কেটে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি ধ্বংস করে মাটি বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের কাঁকফো বাসুপাড়া এলাকায় রাত হলেই শুরু হয় এক্সকাভেটর ও মাটি বোঝাই গাড়ির শব্দ। এতে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও কৃষিজমি সংরক্ষণ আইন অমান্য করে ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এ কাজে রাতের অন্ধকারে কার্যক্রম চালাতে বিভিন্ন স্থানে পাহারাদারও রাখা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সরেজমিনে কাঁকফো বাসুপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি কৃষিজমিতে স্ক্যাভেটর দিয়ে পুকুর খননের কাজ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সেখান থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ধুলোবালিতে পরিবেশও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। তাদের মধ্যে ওসমান, গাফফার, স্বাধীন ও ইসলাম নাম উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা ওসমান মোবাইলে জানান, কোনো অনুমতি নেই, তবে ছোট একটি পুকুর খননের কাজ চলছে। পরে তিনি দেখা করার অনুরোধ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ঠিক আছে, বিষয়টি আমি দেখব।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ও সড়ক পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন