ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

বেতনহীন কর্মচারী, পানিসংকটে গুরুদাসপুর পৌরসভা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

বিদ্যুৎ সংকট, কারিগরি জনবল সংকট এবং একাধিক অচল পানির পাম্পের কারণে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় তীব্র পানিসংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পৌর পানি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পৌরসভার পানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৯টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার ৯৯৯টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে পানির সংযোগ রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫৩২টিতে। ফলে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখনো পৌর পানিসেবার বাইরে রয়েছে।

পানীয় জল সরবরাহের জন্য পৌরসভার ছয়টি ডিপ টিউবওয়েলের মধ্যে পার গুরুদাসপুরের পাম্প দীর্ঘদিন ধরে অচল এবং আনন্দনগরের পাম্পটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এতে বিদ্যমান সংযোগেও নিয়মিত পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে ৯ নম্বর ওয়ার্ড, যেখানে ৮০৫টি হোল্ডিং থাকলেও কোনো পানির সংযোগ নেই।

পৌরসভায় ৪৪টি সরকারি, ৪২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ৮৪০টি বাণিজ্যিক এবং ৮ হাজার ১৫৯টি আবাসিক হোল্ডিং রয়েছে। পানির সংকটে নাগরিকদের পাশাপাশি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানও দুর্ভোগে পড়েছে।

পানি বিভাগে অনুমোদিত ১১টি পদের মধ্যে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। পাইপলাইন মেকার ও পাম্প অপারেটরের অভাবে নতুন সংযোগ ও পাম্প রক্ষণাবেক্ষণ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে, পানি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় তিন বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে পরিবার নিয়ে তারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

পানি শাখার বিল ক্লার্ক ফারুক আহমেদ মিলন বলেন, নাগরিকদের সুবিধার জন্য বর্তমানে দিনে তিনবার পানি সরবরাহ করা হলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পাম্প চালু রাখা সম্ভব হয় না।

গত ২৯ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ জানান, গত অর্থবছরে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি পানির পাম্প পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরেই অচল ও পরিত্যক্ত পাম্পগুলো সচল করা হবে। পাশাপাশি শূন্য পদ পূরণ এবং কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।