ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঋণের চাপে গরু চুরি করছিলেন স্ত্রী, বাধা দেওয়ায় প্রাণ গেল কৃষকের

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ১০:৩০ এএম
স্বামীর মুখ ও হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করেন বেদেনা আক্তার। ছবি- সংগৃহীত

নেত্রকোনা সদর উপজেলার নাড়িয়াপাড়া গ্রামে গরু চুরি রোধ করার সময় নিজের স্ত্রীসহ পাঁচজনের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন কৃষক হেলাল উদ্দিন (৫৮)। হত্যাকাণ্ডে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের স্ত্রী বেদেনা আক্তার (৪০)।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেত্রকোনা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) চম্পক দাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, বেদেনা আক্তার বিভিন্ন সময় কয়েকজনের কাছ থেকে এক লাখ টাকার ঋণ নেন। পাওনাদারদের চাপ এড়াতে তিনি বাবার বাড়ি বারহাট্টা উপজেলার সেমিয়া দুধকুড়া গ্রামের লিটন মিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ করে স্বামীর গরু চুরি ও বিক্রির পরিকল্পনা করেন।

গত শনিবার রাতে লিটন মিয়া, সদর উপজেলার নাড়িয়াপাড়া গ্রামের রিয়েল মিয়া ও আরও দুইজন মিলে গরু চুরি করতে গেলে হেলাল উদ্দিন বাধা দিতে যান। বাধা দেওয়ায় তারা স্বামীর মুখ ও হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করেন।

এর আগে রোববার ভোরে নিহত হেলাল উদ্দিনের বাড়ি থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হেলাল উদ্দিন নাড়িয়াপাড়া গ্রামের মৃত আশ্রাব আলীর ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার নিহতের ছোট ভাই রিয়াজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ বেদেনা আক্তারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে অন্য দুইজন হলেন- রিয়েল মিয়া (৪০) ও লিটন মিয়া (৫০)।

পরিদর্শক চম্পক দাম জানিয়েছেন, বেদেনা আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লিটন মিয়া ও রিয়েল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে পাঁচটি চুরির মামলা রয়েছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন সরকার বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।