ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভিডিওবার্তায় নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করলেন ১১ বছরের শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করা শিক্ষক

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
১১ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক।

এখনো গ্রেপ্তার হননি নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মামলার আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক। অভিযান চালিয়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে গোপন কোনো একটি স্থান থেকে ওই শিক্ষকের 'নিজেকে নির্দোষ দাবি করা' একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার এসআই আখতারুজ্জামান বলেন, একটি ক্লিনিকে (স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার) শিশুটিকে পরীক্ষা করার পর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি পরিবার নিশ্চিত হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করে। বেসরকারিভাবে শিশুটি ২৭ সপ্তাহ ৫ দিনের অস্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। পুলিশের পক্ষ থেকেও নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে সরকারিভাবে পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কত দিনের অন্তঃসত্ত্বা তা রিপোর্ট পেলে জানা যাবে। আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত।

মদন থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সোমবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয় এবং তা অব্যাহত আছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই আমরা আসামিকে আটক করতে সক্ষম হব।

'নিজেকে নির্দোষ দাবি করা' ভিডিও প্রসঙ্গে ওসি বলেন, তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে তো হবে না। যেহেতু তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, আমরা তাকে গ্রেপ্তার করব। তারপর তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার পর যদি তিনি নির্দোষ হন তবে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ মিনিটের ভিডিওতে ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, অসুস্থতার জন্য তিনি কথা বলতে পারছেন না। তারপরও বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

‘দেশের আইন ও বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আছেন’ জানিয়ে ওই শিক্ষক দাবি করেন, তাকে নিয়ে অপপ্রচার চলছে, অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। মেয়েটি একসময় তার মাদ্রাসায় পড়লেও ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবে জড়িত নন। তিনিও চান, প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি বলেন, দেশের আইন আছে, সে আইন সঠিক অপরাধী যে, তাকে খুঁজে বের করবে। আপনারা অপরাধী খুঁজে বের করার আগেই যদি আমাকে অপরাধী বানিয়ে ফেলেন, তাহলে তো আসল অপরাধী পার পেয়ে যাবে।

জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানাবাড়ি থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

সোমবার শিশুটির মা বলেন, আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। জীবিকার তাগিদে সিলেটে মানুষের বাসায় কাজ করি। ছোট তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়া খুব কষ্ট করি। মেয়েডারে আমার বাপের বাড়ি রাইখ্যা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করাইতে ছিলাম। কিন্তু হুজুর আমার এই শিশু বাচ্চাটার সঙ্গে এমন পিশাচের মতো কাজ করব, আমি কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবি নাই। এই ঘটনায় আমি সঠিক বিচার চাই।

পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম আসামিকে আটক করতে না পারার বিষয়ে জানান, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে খুবই আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। এ ঘটনা জানার পর পুলিশ উদ্যোগী হয়ে মেয়েটির মাকে সিলেট থেকে আনে এবং থানায় মামলা করা হয়। কিন্তু এর আগেই অভিযুক্ত শিক্ষক পরিবার নিয়ে পালিয়ে যান। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।