নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও মদন উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পৃথক সময়ে এ ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহতরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের দিগলী গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শামসুল হুদা (৫৫), কেন্দুয়ার সান্দিকোনা গ্রামের ডাউকি বেদেনার ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) এবং মদন উপজেলার কাইটাল (জয়পাশা) গ্রামের সোনালী মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে শামসুল হুদা মাছ ধরতে গ্রামের পাশের মোড়াইল বিলে যান। সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে সান্দিকোনা গ্রামের শ্মশানসংলগ্ন একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল ৫টার দিকে মদন উপজেলার কাইটাল (জয়পাশা) গ্রামে রাজিব মিয়া নামে এক ইটভাটা শ্রমিক বজ্রাঘাতে মারা যান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে রাজিব বাড়ির কাছের জমিতে মাছ ধরার ‘বাইর’ (বাঁশের তৈরি ফাঁদ) তুলতে গিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত রাজিবের স্ত্রী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, কেন্দুয়া ও মদনে বজ্রাঘাতে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন